Published : 18 Mar 2026, 01:05 AM
অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’-এর দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসন স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। এই আলোচনায় দুই দেশের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় এবং কৌশলগত স্বার্থ প্রাধান্য পায়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক সহযোগিতার কথা উল্লেখ করেন। প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা এবং সমুদ্র নিরাপত্তা – এই তিনটি ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করার বিষয়ে তিনি গুরুত্ব আরোপ করেন। লর্ড হ্যানসনও দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও মজবুত করার ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে যুক্তরাজ্যের সমর্থন চেয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতন্ত্রের চর্চা অব্যাহত রাখতে বদ্ধপরিকর – এমনটাই তিনি উল্লেখ করেন। সম্প্রতি ঢাকায় ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকের সূত্র ধরে মন্ত্রী নিরাপত্তা ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ, অভিবাসন প্রক্রিয়া এবং অপরাধ বিচার সংক্রান্ত খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও বাড়ানোর প্রস্তাব দেন। বৈঠকে বাংলাদেশ পুলিশের আধুনিকীকরণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি নিয়ে বিশেষ আলোচনা হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশকে কৌশলগতভাবে ঢেলে সাজাতে, মানবাধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে এবং জবাবদিহিতা বাড়াতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি সহায়তা ও প্রশিক্ষণ প্রয়োজন। এছাড়াও, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ ও স্থায়ী প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপর চাপ অব্যাহত রাখার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা কামনা করেন।
আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তা প্রদানে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জবাবে লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় দেশটির ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা করার আশ্বাস দেন। ভিয়েনায় নিযুক্ত বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের কূটনৈতিক মিশনের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।।
ইরানের দাবি: রাতভর মার্কিন হামলা; কুয়েত-বাহরাইনে সামরিক স্থাপনা ও রাডার লক্ষ্য করে পাল্টা আঘাত