Published : 12 Aug 2026, 07:17 PM
অন্ধকার রাতের আকাশ যখন আলোর এক অসাধারণ প্রদর্শনীতে ভরে ওঠে, তখন মানুষের মন মুগ্ধ হয়ে যায়। মহাজাগতিক ধূলিকণা আর ধূমকেতুর অবশেষ যখন পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে, তখন সৃষ্টি হয় এক অপরূপ দৃশ্য। এই মহাজাগতিক আলোর খেলা আজ বুধবার রাতে বাংলাদেশের আকাশে দৃশ্যমান হবে। প্রতি বছর আগস্ট মাসে এই পারসেইড উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। তবে এবার আগের চেয়েও চমৎকারভাবে উল্কাবৃষ্টি উপভোগ করা সম্ভব বলে আশা করা হচ্ছে। এর প্রধান কারণ হলো বর্তমান চন্দ্র পরিস্থিতি, যা রাতের আকাশকে আরও স্পষ্ট করে তুলবে। যেহেতু চাঁদ আজ পুরোপুরি অন্ধকারে থাকবে, তাই সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থানকারী চাঁদের আলো রাতের অন্ধকারকে আরও গভীর করবে এবং উল্কাবৃষ্টি দেখা সহজ হবে। পারসেইড উল্কাবৃষ্টির এই মহাকাব্যিক দৃশ্যটি আজকের রাত এবং আগামীকালের ভোরের দিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য করা যাবে। চারপাশের পরিবেশ যত বেশি অন্ধকার হবে, তত স্পষ্ট করে লক্ষ লক্ষ উল্কা বা ছুটন্ত তারা দেখা সম্ভব। উত্তর গোলার্ধের মধ্য থেকে দক্ষিণ অক্ষাংশ পর্যন্ত এই উল্কাবৃষ্টি স্পষ্টভাবে দেখা যায়। আগস্ট মাসে উত্তর গোলার্ধের উত্তর-পূর্ব আকাশের দিকে পারসেয়াস নক্ষত্রমণ্ডল উদিত হয়।
যদি এই নক্ষত্রমণ্ডল খুঁজে পেতে অসুবিধা হয়, তবে ক্যাসিওপিয়া নক্ষত্রমণ্ডলের সাহায্য নিতে পারেন; উত্তর দিকে ইংরেজি 'W' আকৃতির ক্যাসিওপিয়া খুঁজে পেলে সহজেই পারসেয়াস খুঁজে পাওয়া যাবে। উল্কাবৃষ্টি উপভোগের জন্য প্রয়োজন সঠিক সময় এবং কিছুটা ধৈর্য। মধ্যরাত থেকে ভোর পাঁচটা পর্যন্ত স্থির হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে। এই সময়ে মাটিতে খোলা চাদর বিছিয়ে বা আরামদায়ক চেয়ারে শুয়ে থাকতে পারেন। অন্ধকার পরিবেশে চোখকে অভ্যস্ত হতে প্রায় ত্রিশ মিনিট সময় দিতে হবে। মনে রাখবেন, টেলিস্কোপ বা বাইনোকুলার ব্যবহার করলে দ্রুত গতিতে ছোটা উল্কাগুলো মিস হয়ে যেতে পারে। তাই খালি চোখে দেখাটাই সবচেয়ে ভালো। দেখার সময় যেন স্মার্টফোনের দিকে দৃষ্টি না দেন, কারণ ফোনের আলো রাতের দৃষ্টিশক্তি কমিয়ে দেয়। এই ছুটন্ত তারাগুলো আসলে কোনো আসল তারা নয়; এগুলি হলো ছোট পাথরের কণা, যা মেটিওরেয়েড নামে পরিচিত। এগুলি পৃথিবী থেকে প্রায় ৯৭ কিলোমিটার উপরে বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং প্রচণ্ড বেগে জ্বলে ওঠে। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, পারসেইডের উল্কা ঘণ্টায় ২ লক্ষ ১৪ হাজার ৩৬০ কিলোমিটার গতিতে বায়ুমণ্ডল অতিক্রম করে।
ধূমকেতু বা গ্রহাণুর ফেলে যাওয়া ধূলিকণার মধ্য দিয়ে পৃথিবী যখন ভ্রমণ করে, তখনই এই উল্কাবৃষ্টি দেখা যায়। উল্কাবৃষ্টির সময় মাঝে মাঝে উজ্জ্বল আলোকবিন্দু দেখা যায়। আমেরিকান মেটিওর সোসাইটির রিপোর্ট অনুযায়ী, ধূমকেতু থেকে যত বেশি কণা নির্গত হবে, তত বেশি উজ্জ্বল আলোর ঝলক দেখা যাবে। এই আলোর খেলার পিছনে রয়েছে ১০৯পি/সুইফট-টার্টল নামের একটি ধূমকেতু, যা ১৯৯২ সালে সৌরজগতের ভেতরের অংশে এসেছিল এবং ভবিষ্যতে আর ফিরে আসবে না। এই ধূমকেতুর কেন্দ্র বা নিউক্লিয়াসটি প্রায় ২৬ কিলোমিটার ব্যাসের। অন্যান্য উল্কাবৃষ্টির চেয়ে পারসেইড বেশি জনপ্রিয় হওয়ার কারণ হলো এর সময়কাল। উত্তর গোলার্ধে গ্রীষ্মকালে এটি ঘটে, ফলে মানুষ সহজে দেখতে পায়। অন্য উল্কাবৃষ্টিগুলো শীতকালে হওয়ায় ঠান্ডার কারণে দেখার সুযোগ কম থাকে।।
সৌরজগতের নিবিড় সান্নিধ্যে ৪টি রহস্যময় নক্ষত্রের উন্মোচন করল হাবল টেলিস্কোপ