Published : 08 Apr 2026, 01:08 PM
মঙ্গল গ্রহকে মানুষের বসবাসের উপযোগী করে তোলার পরিকল্পনা এতদিন ধরে ছিল বহু শতাব্দীর। কিন্তু নতুন গবেষণা বলছে, সময়সীমা হয়তো নাটকীয়ভাবে কমে আসতে পারে। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, মঙ্গলের মাটিতে থাকা প্রচুর পরিমাণে লোহা (আয়রন) ও অ্যালুমিনিয়াম দিয়ে তৈরি অতি ক্ষুদ্র কণা ব্যবহার করে গ্রহটিকে দ্রুত উষ্ণ করা যেতে পারে। বর্তমানে মঙ্গলের গড় তাপমাত্রা হিমাঙ্কের চেয়ে অনেক নিচে, প্রায় মাইনাস ৬৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরি অ্যারোজেল মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করালে যে গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হবে, তার ফলে মাত্র ১৫ বছরের মধ্যে গ্রহের পৃষ্ঠের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরে উঠে যেতে পারে। আগে মঙ্গলে উষ্ণতা বাড়ানোর জন্য পৃথিবী থেকে প্রচুর গ্রিনহাউস গ্যাস পাঠানোর কথা ভাবা হতো, যা ছিল অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং প্রায় অসম্ভব। কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে মঙ্গলের নিজস্ব খনিজ সম্পদ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। লোহা ও অ্যালুমিনিয়ামের এই কণাগুলো বালির চেয়ে ছোট, কিন্তু মঙ্গলের ধুলোর চেয়ে বড়।
রড আকৃতির এই কণাগুলো বায়ুমণ্ডলে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকতে পারে এবং মঙ্গলের পৃষ্ঠ থেকে বিকিরিত তাপকে পুনরায় প্রতিফলিত করে, যা একটি প্রাকৃতিক তাপ-রক্ষাকবচ তৈরি করবে। এই পদ্ধতিটি পৃথিবী থেকে কার্গো পাঠানোর পুরোনো পদ্ধতির চেয়ে প্রায় ৫ হাজার গুণ কম শক্তি ব্যবহার করবে। যদিও এই বায়ুমণ্ডল এখনই শ্বাস নেওয়ার মতো উপযুক্ত হবে না, তবে এই তাপীয় পরিবর্তন মঙ্গলে তরল পানির অস্তিত্বের সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং মানব বসতি স্থাপনের পথে প্রথম পদক্ষেপ হবে। মঙ্গলের উষ্ণতা বৃদ্ধি একটি দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত পরিবর্তনের সূচনা মাত্র। অ্যারোসল পদ্ধতি তাপমাত্রা বাড়াতে সাহায্য করলেও, মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলের ৯৫ শতাংশই এখনো কার্বন ডাই-অক্সাইড। তাপমাত্রা বাড়লে মঙ্গলের মেরু অঞ্চলের বরফ গলতে শুরু করবে, যা বায়ুমণ্ডলে আটকে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইডকে মুক্ত করবে এবং বায়ুমণ্ডলকে আরও ঘন করবে। নাসার পরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে মঙ্গলের বায়ুমণ্ডল থেকে অক্সিজেন তৈরি করা সম্ভব। উষ্ণায়নের পর সেখানে সায়ানোব্যাকটেরিয়া অথবা জেনেটিক্যালি পরিবর্তিত উদ্ভিদ প্রবর্তন করা হবে, যা সালোকসংশ্লেষণের মাধ্যমে শ্বাসযোগ্য অক্সিজেন উৎপাদন করবে।
মঙ্গলে স্থায়ী বসতি স্থাপনের পথে একটি বড় বাধা হলো এর কোনো শক্তিশালী চৌম্বকক্ষেত্র না থাকা। এর ফলে সূর্যের সৌর বায়ু প্রতিনিয়ত মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলকে ক্ষয়ে ফেলে। নাসার ম্যাভেন মিশনের তথ্য অনুযায়ী, এই টেরাফর্মিং প্রক্রিয়া সফল করতে হলে বায়ুমণ্ডলীয় ক্ষয় রোধ করা জরুরি। গবেষকেরা প্রস্তাব করেছেন, মঙ্গল এবং সূর্যের মাঝখানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে একটি কৃত্রিম চৌম্বকীয় Shield বা ঢাল তৈরি করা যেতে পারে। এটি মঙ্গলের ঘন হয়ে আসা বায়ুমণ্ডলকে সৌর বায়ুর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করবে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।
মহাকাশের গভীরে ইউরেনিয়ামের জন্ম: তারাদের বিস্ফোরণে কি তৈরি হয়েছিল এই মৌল?