Published : 09 Jul 2026, 04:38 AM
অসীম মহাকাশের বুকে মানুষের পদচিহ্ন এখন আর কেবল কল্পনার বিষয় নয়। গত এপ্রিলে চাঁদে পৌঁছানোর লক্ষ্যে আর্টেমিস-২ মিশনের সফল চন্দ্রাভিযান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। কারণ, সর্বশেষ চাঁদে মানুষের পদার্পণ হয়েছিল ১৯৭২ সালে। অ্যাপোলো-১৭ মিশনের পর এবারই প্রথম মানুষ চাঁদে অভিযান পরিচালনা করল; কিন্তু এই মহাকাশ প্রতিযোগিতা কেবল প্রযুক্তিগত নয়, এর পেছনে লুকিয়ে আছে গভীর ভূ-রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, যা বিশ শতকের স্নায়ুযুদ্ধের স্মৃতি বহন করে। এই মহাকাশ উন্মাদনা যদি দ্রুত নতুন আন্তর্জাতিক নিয়মের বেড়াজালে আবদ্ধ না হয়, তবে তা মানবজাতির জন্য এক মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। বর্তমানে এই মহাকাশ অভিযানে অংশগ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ছাড়াও কানাডা, চীন, ভারত, জাপান, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইউরোপের বহু দেশ। বেসরকারি সংস্থা যেমন স্পেসএক্স, ব্লু অরিজিন, বোয়িংয়ের মতো প্রতিষ্ঠানগুলোও এই দৌড়ে শামিল হয়েছে। চাঁদের বুকে লুকিয়ে আছে অমূল্য সম্পদ—জল এবং হিলিয়াম-৩।
বিজ্ঞানীরা অনুমান করছেন, এই সম্পদ ভবিষ্যতে মহাকাশযানের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। এই সম্পদের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নির্ধারণ করবে পৃথিবীর কৌশলগত ক্ষমতা। এই কারণেই এই তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে। অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ ক্যাসান্ড্রা স্টিয়ারের মতে, আমাদের দৈনন্দিন জীবন এখন পুরোপুরি মহাকাশের ওপর নির্ভরশীল। স্যাটেলাইট ও কৃত্রিম উপগ্রহের সাহায্য ছাড়া আবহাওয়া পরীক্ষা থেকে শুরু করে পোশাক কেনা পর্যন্ত সবকিছুই সম্ভব হচ্ছে। কিন্তু মহাকাশে স্যাটেলাইটের ভিড় এবং মহাজাগতিক বর্জ্য (Space Debris) যদি এভাবে বাড়তে থাকে, তবে কক্ষপথে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের সৃষ্টি হতে পারে, যা পৃথিবীর যোগাযোগব্যবস্থাকে অচল করে দিতে পারে। একই সাথে, সামরিক বাহিনীও নেভিগেশন ও যোগাযোগের জন্য স্যাটেলাইটের ওপর নির্ভরশীল। যুদ্ধক্ষেত্রে প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে স্যাটেলাইট ধ্বংসের মতো ঘটনা মহাকাশ যুদ্ধ ডেকে আনতে পারে, যা পুরো কক্ষপথকে মানুষের ব্যবহারের অনুপযোগী করে দেবে।
ঐতিহাসিক আউটার স্পেস চুক্তিতে মহাকাশকে সকলের জন্য উন্মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এই জটিল পরিস্থিতিতে সেই চুক্তিকে সংবিধান হিসেবে ধরে নিয়ে নতুন ও কঠোর উপ-আইন তৈরি করা অপরিহার্য। এই নিয়ম তৈরির জন্য জাতিসংঘ, ন্যাটো বা কোয়াডের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সম্মিলিত পদক্ষেপ প্রয়োজন। আমরা প্রত্যেকেই মহাকাশের নাগরিক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা জলবায়ু পরিবর্তনের মতো মহাকাশের সুরক্ষায় সাধারণ মানুষের সচেতনতা ও নাগরিক সমাজকে ভূমিকা রাখতে হবে। আমাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই মহাকাশকে একটি নিরাপদ ও যুদ্ধমুক্ত অঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলা এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি।।
প্রাগৈতিহাসিক ডাইনোসরের চামড়া দিয়ে তৈরি হ্যান্ডব্যাগ! বিজ্ঞানীদের বিস্ময়কর আবিষ্কার, এবার হবে নিলামে