Published : 17 Jan 2026, 03:07 PM
রাসায়নিক দূষণ সবসময় চোখে দেখা যায় না, এমনকি এর গন্ধও বোঝা যায় না। কিছু দূষিত পদার্থ পরিবেশে মিশে গিয়ে সময়ের সাথে সাথে আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। সম্প্রতি 'নেচার কমিউনিকেশনস' জার্নালে প্রকাশিত অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অফ নিউ সাউথ ওয়েলস সিডনির এক গবেষণা বলছে, 'ফরএভার কেমিক্যাল' বা পিফাস নামক বিষাক্ত উপাদান খাদ্যচক্রে ক্রমাগত ঘনীভূত হচ্ছে। অর্থাৎ, একটি প্রাণী অন্য প্রাণীকে খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করার সাথে সাথে এই রাসায়নিকের মাত্রা প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। পিফাস হলো এমন একটি রাসায়নিক যৌগ যা রান্নার বাসনপত্র থেকে শুরু করে খাদ্য মোড়কের মতো দৈনন্দিন জীবনে ব্যবহৃত অসংখ্য পণ্যে বিদ্যমান। এই গবেষণার প্রধান গবেষক লোরেঞ্জো রিকলফি জানান, খাদ্যচক্রে উপরের স্তরের প্রতিটি প্রাণীর দেহে পিফাসের ঘনত্ব গড়ে দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। শিল্পকারখানার বর্জ্য এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার মাধ্যমে এই রাসায়নিক প্রথমে নদী, হ্রদ ও সমুদ্রের পানিতে মেশে।
এরপর জলজ উদ্ভিদ যেমন শৈবাল বা প্ল্যাঙ্কটন তা শোষণ করে নেয়। ছোট মাছ যখন এই শৈবাল ভক্ষণ করে, তখন পিফাস তাদের শরীরে প্রবেশ করে। পরবর্তীতে, বড় মাছ যখন অনেক ছোট মাছ শিকার করে, তখন ছোট মাছগুলোর শরীরে জমা থাকা বিষাক্ত উপাদান বড় মাছের দেহে একত্রিত হয়। এই রাসায়নিক পদার্থ শরীর থেকে সহজে নির্গত হয় না বা ভাঙে না, তাই এটি ক্রমাগত বাড়তে থাকে। খাদ্যচক্রের শীর্ষে থাকা মাছ, সামুদ্রিক পাখি ও স্তন্যপায়ী প্রাণীরা নিয়মিত শিকার করে, যার ফলে তাদের শরীরে পিফাসের মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছায়। গবেষক রিকলফি সতর্ক করে বলেন, পরিবেশ দূষণের মাত্রা কম হলেও খাদ্যচক্রের কারণে শীর্ষ শিকারি প্রাণীরা অস্বাভাবিক মাত্রায় বিষক্রিয়ার শিকার হচ্ছে। যেহেতু মানুষও সামুদ্রিক মাছ ও অন্যান্য প্রাণী খাদ্য হিসেবে গ্রহণ করে, তাই এই রাসায়নিক সরাসরি জনস্বাস্থ্যের জন্য একটি বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গবেষকেরা বিশ্বজুড়ে পরিচালিত ৬৪টি ভিন্ন গবেষণার ফলাফল বিশ্লেষণ করেছেন, যেখানে ১১৯টি বিভিন্ন খাদ্যশৃঙ্খল এবং ৭২ ধরনের পিফাস যৌগ অন্তর্ভুক্ত ছিল। জলজ এবং স্থলজ উভয় বাস্তুসংস্থানেই একই চিত্র লক্ষ্য করা গেছে। এমনকি যেখানে মাটি বা পানির দূষণ ছিল খুবই কম, সেখানেও খাদ্যশৃঙ্খলের উপরের স্তরের প্রাণীদের শরীরে উচ্চমাত্রার রাসায়নিক পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় গবেষকেরা আন্তর্জাতিক মহলে কঠোর নীতি প্রণয়নের জোর দিয়েছেন। তাঁদের মতে, শুধু রাসায়নিকের বিষাক্ততা পরীক্ষা করলেই যথেষ্ট নয়, এটি খাদ্যশৃঙ্খলে কীভাবে বাড়ছে বা 'বায়োম্যাগনিফিকেশন' হচ্ছে কিনা, সেদিকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সূত্র: আর্থ ডটকম।
মহাকাশের গভীরে ইউরেনিয়ামের জন্ম: তারাদের বিস্ফোরণে কি তৈরি হয়েছিল এই মৌল?