Published : 12 May 2026, 08:08 PM
মিরপুর টেস্টে দাপুটে জয় দিয়ে ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। প্রথমবারের মতো নিজ মাটিতে টেস্ট ক্রিকেটে পাকিস্তানকে হারালো টাইগাররা। ২৬৮ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তান দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১৬৩ রানে গুটিয়ে যায়, ফলে বাংলাদেশ ১০৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে। এই জয়ে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে ১৫টি টেস্ট খেললেও বাংলাদেশ মাত্র দুইবার জয়ের দেখা পেয়েছিল, এবং সেই দুটি জয়ই এসেছিল ২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাটিতে। এবার নিজেদের ডেরায় পাকিস্তানকে হারিয়ে টানা তিনটি টেস্ট জয়ের বিরল কীর্তি গড়ল টাইগাররা। ২৬৮ রানের কঠিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান। ইনিংসের প্রথম ওভারেই তাসকিন আহমেদ ইমাম-উল-হককে (২) কট-বিহাইন্ডে আউট করে দেন। এরপর আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল দ্বিতীয় উইকেটে ৫৪ রানের জুড়ি গড়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে মেহেদী হাসান মিরাজের ঘূর্ণিতে বোল্ড হয়ে ফেরেন আজান (১৫)। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও ব্যর্থ হন পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদ, মাত্র ২ রান করে নাহিদ রানার গতির কাছে ধরাশায়ী হন তিনি। অন্যপ্রান্তে আব্দুল্লাহ ফজল লড়াই চালিয়ে ফিফটি তুলে নেন।
৩১ ওভারে ৩ উইকেটে ১১৬ রান নিয়ে চা-বিরতিতে যায় পাকিস্তান। তবে বিরতির পর বাংলাদেশের বোলাররাই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। তাইজুল ইসলামের এলবিডব্লিউ ফাঁদে পড়ে ৬৬ রান করে বিদায় নেন ফজল। এরপর দ্রুত ভেঙে পড়ে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ। তাসকিনের বলে স্লিপে ক্যাচ দেন সালমান আলী (২৬)। শেষ সেশনে আগুন ঝরান নাহিদ রানা। তার গতির কাছে পাকিস্তানি ব্যাটাররা দাঁড়াতেই পারেনি। সৌদ শাকিল (১৫) উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিলে পাকিস্তানের আশা প্রায় শেষ হয়ে যায়। এরপর ১৪৭ কিলোমিটার গতির দুর্দান্ত ইন-সুইঙ্গারে মোহাম্মদ রিজওয়ানকে বোল্ড করেন নাহিদ। হাসান আলী ও নোমান আলীকেও দ্রুত ফিরিয়ে দিয়ে জয়ের পথে শেষ পেরেকটি ঠোকেন এই তরুণ পেসার। শেষ পর্যন্ত শাহিন শাহ আফ্রিদির উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের ইনিংস গুটিয়ে দেন নাহিদ। ৫ রানে অপরাজিত থাকেন মোহাম্মদ আব্বাস।
৪০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা বোলিং করেন নাহিদ। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তার দ্বিতীয় পাঁচ উইকেট শিকার। তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদ নেন দুটি করে উইকেট, আর মিরাজ পান একটি। এর আগে চতুর্থ দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৫২ রান করেছিল বাংলাদেশ। পঞ্চম দিনে অধিনায়ক শান্ত ৮৭ রান করে আউট হন। মুশফিকুর রহিম করেন ২২ রান। এছাড়া মুমিনুল হক ৫৬, মিরাজ ২৪ ও লিটন দাস ১১ রান করেন। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ২৪০ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করলে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ২৬৮ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৪১৩ রান, জবাবে পাকিস্তান তোলে ৩৮৬। ২৭ রানের লিড নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে স্বাগতিকরা।।
রিজওয়ানের ‘অভিনয়’ নিয়ে টাইগারদের বিদ্রূপ, মাঠেই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়!