Published : 01 Feb 2026, 03:07 PM
আজ বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে এক গভীর শূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। কিংবদন্তী ক্রীড়াবিদ ও সংগঠক মোস্তফা কামাল আজ সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। রাজধানীর শান্তিনগরে নিজ বাসভবনে বার্ধক্যজনিত জটিলতা আর কিডনির অসুস্থতার সাথে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর তিনি ইন্তেকাল করেন। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৮ বছর। মোস্তফা কামাল শুধু একজন দক্ষ সংগঠক ছিলেন না, এককালে খেলার মাঠেও ছিলেন উজ্জ্বল নক্ষত্র। নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া এই মানুষটি ষাটের দশকে ঢাকার খেলার ареনাগুলোতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। তাঁর ফুটবল ও ভলিবল জীবনের সোনালী অধ্যায় আজও ক্রীড়াপ্রেমীদের স্মৃতিতে অমলিন। ১৯৬২ থেকে ১৯৬৫ সাল পর্যন্ত মোস্তফা কামাল আজাদ স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে ঢাকার প্রথম বিভাগ ফুটবলে দাপিয়ে খেলেছেন।
এরপর ১৯৬৬ সালে যোগ দেন ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে। সাদা-কালো জার্সিতে কাটানো চার বছরে তিনি দুবার লিগ শিরোপা জেতেন। ১৯৬৬ সালের আগা খাঁন গোল্ডকাপে মোহামেডানের হয়ে যখন তিনি খেলতেন, তখন তাঁর পাশে থাকতেন জাকারিয়া পিন্টু, প্রতাপ শংকর হাজরা, তোরাব আলী, বশীর ও জহিরুল হক-এর মতো কিংবদন্তীরা। আজ সেই সোনালী সময়ের আরও একটি উজ্জ্বল তারা নিভে গেল। ফুটবল ছাড়াও ভলিবল কোর্টে মোস্তফা কামাল ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। ১৯৬৩ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত তিনি পূর্ব পাকিস্তান ভলিবল দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এবং ১৯৬৮ সালে দলের নেতৃত্বও দেন। মাঠের বাইরে মোস্তফা কামাল ছিলেন অত্যন্ত অমায়িক ও মিশুক মানুষ। তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ ব্যবহার সকলের কাছে তাঁকে শ্রদ্ধার পাত্র করে তুলেছিল।
বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসপিএ) আজীবন সদস্য হিসেবে তিনি সংবাদকর্মীদের কাছেও ছিলেন অত্যন্ত আপনজন। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের সহসভাপতি হিসেবে তিনি সবসময় নতুন প্রজন্মকে উৎসাহিত করতেন। আজ বাদ জোহর শান্তিনগর ইস্টার্ন প্লাস শপিং মলে মোস্তফা কামালের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর তাঁর মরদেহ ঢাকার জাতীয় স্টেডিয়ামে আনা হবে। রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হবেন এই গুণী মানুষ। মোস্তফা কামালের প্রয়াণে দেশের ক্রীড়াঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, ঢাকা মোহামেডান, বাংলাদেশ স্পোর্টস প্রেস অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে।।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বললেন, “কোলম্যানকে নিয়ে আমি আশাবাদী”—প্রথম আলো