Published : 19 Jan 2026, 01:09 PM
প্রিমিয়ার লিগের লড়াইটা যেন এক শ্বাসরুদ্ধকর নাটক। গত শনিবারের বড় ম্যাচগুলোর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। শিরোপার দৌড়ে থাকা আর্সেনাল এবং ম্যানচেস্টার সিটি—দুজনেই হোঁচট খেয়েছে। পেপ গার্দিওলার দল ম্যানসিটি ডার্বিতে ২-০ গোলে হেরে বসেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কাছে। শীর্ষে থাকা আর্সেনালের সামনে সুযোগ ছিল নটিংহাম ফরেস্টকে হারিয়ে ব্যবধান বাড়িয়ে ৯ পয়েন্টে নিয়ে যাওয়ার। কিন্তু গানাররা সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারেনি। ফরেস্টের মাঠে গোলশূন্য ড্র করে তারা। প্রথমার্ধে গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির একটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ায় গল্পটা অন্যরকম হতে পারত। দ্বিতীয়ার্ধে ডেকলান রাইস এবং বুকায়ো সাকা চেষ্টা চালিয়েছেন, তবে ফরেস্টের গোলরক্ষক ম্যাটস সেলস চীনের প্রাচীরের মতো দুর্ভেদ্য ছিলেন। অন্যদিকে, আর্সেনালের গোলরক্ষক দাভিদ রায়াকে তেমন কোনো কঠিন পরীক্ষা দিতে হয়নি, কারণ ফরেস্টের আক্রমণগুলো তাঁর গোলপোস্টের কাছেও পৌঁছায়নি। এই ড্রয়ের পর আর্সেনালের ২২ ম্যাচে ৫০ পয়েন্ট। সমান ম্যাচে সিটির পয়েন্ট ৪৩। গত রাতে এভারটনকে হারাতে পারলে অ্যাস্টন ভিলা ৪৬ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে উঠে যেত। আরও পড়ুনশামসুন্নাহারের গোল-জাদু চলছেই, পাঁচ ম্যাচে পাঁচটিতেই সেরা১৭ জানুয়ারি ২০২৬জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির সূচি গানারদের জন্য বেশ কঠিন।
২৫ জানুয়ারি এমিরেটসে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিপক্ষে তাদের পরীক্ষা হবে। এরপর ৩১ জানুয়ারি লিডস ইউনাইটেডের মাঠে তারা অতিথি হিসেবে খেলবে। ফেব্রুয়ারি মাসে সান্ডারল্যান্ড, ব্রেন্টফোর্ড এবং চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী টটেনহামের বিপক্ষে ম্যাচ রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ইন্টার মিলানের সঙ্গে লড়াইয়ের পাশাপাশি লিগের এই পাঁচ বাধা অতিক্রম করাই হবে মিকেল আরতেতার প্রধান চ্যালেঞ্জ। সিটির সময়টা ভালো যাচ্ছে না। শিরোপার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে তাদের জয়ের বিকল্প নেই। ২৪ জানুয়ারি তারা টেবিলের তলানির দল উলভসের বিপক্ষে খেলবে। এরপর টটেনহামের মাঠে খেলবে এবং ৮ ফেব্রুয়ারি অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে গার্দিওলার শিষ্যরা। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ফুলহাম ও নিউক্যাসলের বিপক্ষে তারা ঘরের মাঠে খেলবে। আরও পড়ুনইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে যে ক্লাব থেকে আসে সবচেয়ে বেশি খেলোয়াড়১৬ জানুয়ারি ২০২৬ শিরোপার লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়লেও সিটি মিডফিল্ডার রদ্রি দমে যাওয়ার পাত্র নন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, হাল ছাড়ার প্রশ্নই ওঠে না, সিটি শেষ পর্যন্ত লড়বে। তাঁর ভাষায়, ‘ফুটবল এমনই। কখনো আপনি হারবেন, তবে সেই অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াই আসল কাজ।’ সিটির বর্তমান দলে প্রতিভার অভাব নেই, তবে বড় ম্যাচে তারা ছন্দ হারাচ্ছে।
রদ্রি অবশ্য এই তরুণদের আগলে রাখতে চান। তিনি বললেন, ‘ওরা দুর্দান্ত খেলছে। অবশ্যই কখনো কখনো অভিজ্ঞতার ঘাটতি থাকে। তবে আমাদের দায়িত্ব ওদের পাশে থাকা। কারণ, আগামী বছরগুলোতে ওরাই দলের বড় শক্তি হবে।’ দল গড়ার পথটা সহজ নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিলেন রদ্রি। ‘এভাবেই দল তৈরি হয়। কখনো অপেক্ষা করতে হয়, বড় কিছু গড়তে সময় লাগে। এটাই আমাদের বাস্তবতা।’ সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে সিটি অনেক পয়েন্ট হারিয়েছে। তবু তারা এখনো দ্বিতীয় বা তৃতীয় স্থানে। রদ্রির দৃঢ় কণ্ঠে প্রতিজ্ঞা, ‘আমরা শেষ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাব।’ আরও পড়ুনএমবাপ্পের দলে কোচ হলেই যে বিপদ, চলে যাবে চাকরি১৬ জানুয়ারি ২০২৬।
পিছিয়ে গেলেও জয়: দক্ষিণ কোরিয়ার দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে পরাজিত করল এশিয়া