Published : 12 Apr 2026, 02:08 PM
ভারতীয় সঙ্গীতের স্বর্ণযুগের অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র, প্রবাদপ্রতিম কণ্ঠশিল্পী আশা ভোসলে আর নেই। ৯২ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। শনিবার মুম্বাইয়ের ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতা নিয়ে লড়াই করছিলেন তিনি। হাসপাতাল সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে তাঁর স্বাস্থ্যের যথেষ্ট অবনতি হয়েছিল। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে আনার পর তাঁকে আইসিইউতে রাখা হয়। রোববার দুপুরে তাঁর পুত্র আনন্দ ভোসলে এই দুঃখজনক খবর নিশ্চিত করেন। আগামীকাল তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এই গায়িকার অবদান অনস্বীকার্য। তাঁর বর্ণময় সঙ্গীতজীবনে একমাত্র তাঁর দিদি, প্রয়াত লতা মঙ্গেশকরই তাঁর সমকক্ষ ছিলেন। ১৯৩৩ সালে সঙ্গীতজ্ঞ মঙ্গেশকর পরিবারে জন্ম নেওয়া আশা মাত্র ৯ বছর বয়সেই পেশাদার সঙ্গীতশিল্পী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।
১৯৪৩ সালে তিনি তাঁর প্রথম চলচ্চিত্রের গান রেকর্ড করেন। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই, ১৯৫০-এর দশকে তিনি বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে নেন। প্রায় তিন দশক ধরে তিনি ছিলেন সুরকারদের প্রথম পছন্দ। ক্যারিয়ারের শুরুতে তাঁকে ক্যাবারে গান (যা বর্তমানে 'আইটেম সং' নামে পরিচিত) দিয়ে চিহ্নিত করা হলেও, তিনি খুব দ্রুত নিজেকে একজন বহুমুখী শিল্পী হিসেবে প্রমাণ করেন। 'উমরাও জান' ছবিতে তাঁর গাওয়া গজল আজও শ্রোতাদের মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে। আশা ভোসলে সাতবার ফিল্মফেয়ার পুরস্কার এবং দুবার জাতীয় পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছেন। 'উমরাও জান'-এর 'দিল চিজ কিয়া হ্যায়' এবং 'ইজাজত'-এর 'মেরা কুছ সামান' গানের জন্য তিনি এই পুরস্কারগুলি লাভ করেন। ২০২৩ সালে হিন্দুস্তান টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি সমসাময়িক সঙ্গীত নিয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “সত্যি বলতে, আমি এখনকার গান শুনি না। গান শুনতে হলে, (প্রয়াত শিল্পী) ভীমসেন জোশির গান শুনি, উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত এবং গজল শুনি। কারণ, এর মাধ্যমে নতুন কিছু শিখতে পারি এবং নিজের সাধনাকে আরও উন্নত করতে পারি।
” ব্যক্তিগত জীবনে আশা ভোসলের জীবন নানা উত্থান-পতনে ভরা ছিল। মাত্র ১৬ বছর বয়সে পরিবারের অমতে তিনি বাড়ি ছেড়েছিলেন এবং ৩১ বছর বয়সের গণপতরাও ভোসলের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। গণপতরাও ছিলেন তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী। তবে শ্বশুরবাড়িতে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার পর তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। তাঁদের তিন সন্তান ছিল এবং ১৯৬০ সালে তাঁরা আইনগতভাবে আলাদা হয়ে যান। দীর্ঘ প্রেমের পর ১৯৮০ সালে তিনি প্রখ্যাত সুরকার রাহুল দেব বর্মণের (আর ডি বর্মণ) সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিবাহ করেন। রাহুল ছিলেন কিংবদন্তী সচিন দেব বর্মণের পুত্র। বর্মণ পরিবার এই বিয়ে মেনে নেয়নি, বিশেষ করে রাহুলের মা ছিলেন ঘোর বিরোধী। ১৯৯৪ সালে রাহুলের মৃত্যু হয়। আশার নাতনি জানাই ভোসলে নিজেও একজন গায়িকা এবং জীবনের শেষ দিনগুলোতে তিনি তাঁর দিদিমার ছায়াসঙ্গী ছিলেন।।
সমুদ্রের বুকে মর্মান্তিক পরিণতি! টালিউডের প্রিয় অভিনেতা রাহুলের আকস্মিক প্রয়াণ