Published : 15 Feb 2026, 05:07 PM
ইংল্যান্ডের প্রাক্তন অধিনায়ক মাইক আথারটন মনে করেন, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যেকার ক্রিকেট ম্যাচ এখন আর সত্যিকারের ক্রিকেট নয়, বরং একটি ‘রূপকথার খেলা’র মতো যা শুধুমাত্র দেখানোর জন্য আয়োজন করা হয়। তাঁর মতে, এই দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যেকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা তার পুরনো আকর্ষণ হারিয়ে ফেলেছে এবং এখন এটি শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের একটি মাধ্যম। আজ কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে মুখোমুখি হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তান। তবে সম্প্রতি এই ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে কিনা, সেই নিয়ে যে অনিশ্চয়তা দেখা গিয়েছিল, তার প্রেক্ষিতে দ্য টাইমসে প্রকাশিত একটি কলামে আথারটন এই কথাগুলো বলেছেন। এবারের বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ না হওয়ায় পাকিস্তান সরকার ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছিল। যেহেতু এই ম্যাচ থেকে টুর্নামেন্টের একটি বড় অংশ আয় আসে, তাই আইসিসি এই ঘোষণায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে। লাহোরে গিয়ে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সঙ্গে আলোচনা করেন এবং শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান তাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে। আথারটনের মতে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে বিশ্ব ক্রিকেট একটিমাত্র ম্যাচের উপর কতটা বিপজ্জনকভাবে নির্ভরশীল। তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তান সরকার যখন ম্যাচটি থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল, তখন ক্রিকেট বিশ্বে একটা আর্থিক ধাক্কা লাগে।
এই ঘটনা থেকে দুটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে: প্রথমত, এই অঞ্চলে খেলাধুলা এখন কতটা রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে দিয়ে যায়। দ্বিতীয়ত, ক্রিকেটের অর্থনীতি কতটা দুর্বল, যা একটিমাত্র ম্যাচের উপর নির্ভরশীল।’ বর্তমানে বিশ্বকাপে ধারাভাষ্যকার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা আথারটন মনে করেন, রাজনৈতিক উত্তেজনা সত্ত্বেও এই ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হওয়া ছিল অনিবার্য। এর কারণ হিসেবে তিনি ক্রিকেটের বাণিজ্যিক দিকটিকে দায়ী করেছেন। আথারটন পরিস্থিতিটিকে ব্যাখ্যা করেছেন এভাবে—‘আধুনিক ক্রিকেটে অর্থ শুধু কথা বলে না, রীতিমতো গর্জন করে। তাই ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচটি যে কোনো মূল্যে আয়োজন করাটা ছিল সময়ের দাবি। এই লড়াই এখন এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, এটিকে ব্যর্থ হতে দেওয়া যায় না।’ খেলার চেয়ে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের সমালোচনা করে তিনি আরও বলেন, ‘এই লড়াই বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখেছে। কিন্তু এটি আকর্ষণীয় খেলা থেকে превращается শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের একটি মাধ্যম হিসেবে।
’ আইসিসির মধ্যস্থতা ও পর্দার আড়ালের কূটনীতির পর পিসিবি পিছু হটলেও আথারটন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, উপমহাদেশে ক্রিকেট কখনোই কেবল একটি খেলা নয়। তিনি সরকার প্রধানদের এই বিষয়ে হস্তক্ষেপকে নেতিবাচকভাবে দেখছেন। ম্যাচের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এই প্রাক্তন ইংলিশ ওপেনার। তাঁর মতে, ‘সত্যি বলতে, ইদানীং এটি একটি তামাশায় পরিণত হয়েছে। মাঠের লড়াইটা একপেশে হয়ে গেছে। আর মাঠের বাইরের ফলাফলকে শুধুমাত্র লোকদেখানোর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।’ আরও পড়ুনক্রিকেটের আঁচে বৈরিতার বরফ গলবে তো?৮ ঘণ্টা আগে।
টি-টোয়েন্টিতে নতুন অধিনায়ক শ্রেয়স আইয়ার, সূর্যবংশীর ঐতিহাসিক অভিষেক এবং দলের নতুন মুখ