Published : 14 Jun 2026, 05:57 PM
সরকার ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য পাঁচ বছরের একটি নতুন করহার কাঠামো উপস্থাপন করতে চলেছে। এই প্রস্তাবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দুই বছর এবং পরবর্তী বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের তিন বছরের সম্ভাব্য করহারের রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত আয়করের হার বর্তমান ৩০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ শতাংশ করা হতে পারে। এর ফলে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ওপর করের বোঝা আরও বাড়বে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর বাজেট বক্তৃতায় বলা হয়েছে, "২০২৮-২৯ করবর্ষ থেকে ২০৩০-৩১ করবর্ষ পর্যন্ত ৩ কোটি টাকার বেশি আয়ের ওপর অতিরিক্ত ৫ শতাংশ কর আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। এই উচ্চ করহার কেবল সীমিত সংখ্যক ধনী ও উচ্চ আয়ের করদাতাদের জন্যই প্রযোজ্য হবে; মধ্যম আয়ের মানুষ এই নতুন ধারার আওতার বাইরে থাকবে।
" এই নতুন কাঠামো কার্যকর হলে, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে অর্জিত আয়ের ওপর এটি প্রযোজ্য হবে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৮-২৯ করবর্ষে করমুক্ত আয়সীমা বর্তমানের চেয়ে ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৪ লক্ষ টাকা করা হবে। এরপর বিভিন্ন আয় স্তরের ওপর নির্দিষ্ট হারে কর ধার্য করা হবে: পরবর্তী ৩ লক্ষ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, পরবর্তী ৪ লক্ষ টাকার ওপর ১৫ শতাংশ, পরবর্তী ৫ লক্ষ টাকার ওপর ২০ শতাংশ, পরবর্তী ২০ লক্ষ টাকার ওপর ২৫ শতাংশ এবং পরবর্তী ২ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকার ওপর ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হবে। এই হিসাব অনুযায়ী, ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত আয়ের ওপর সর্বোচ্চ করহার ৩০ শতাংশ থাকবে, কিন্তু ৩ কোটির বেশি আয়ের অংশটির ওপর ৩৫ শতাংশ হারে কর দিতে হবে। যদিও ২০৩০-৩১ করবর্ষে সর্বোচ্চ করহার একই থাকবে, নিম্ন আয়ের স্তরগুলোতে কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ওই বছর করমুক্ত আয়সীমা বাড়িয়ে সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
চলতি অর্থবছরের আয়ের বিপরীতে আগামী ২০২৬-২৭ করবর্ষের জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৩ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় ঘোষণা করা হয়েছিল। ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে একসময় ব্যক্তিশ্রেণির সর্বোচ্চ আয়কর হার ছিল ৩০ শতাংশ। পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তা ২৫ শতাংশে নামিয়ে আনা হলেও মেয়াদের শেষে তা আবার ৩০ শতাংশে উন্নীত করা হয়। অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে আয় বৈষম্য কমানোর লক্ষ্যে উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের ওপর তুলনামূলক বেশি হারে কর আরোপের পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে কিছু করবিশেষজ্ঞ মনে করেন, যারা নিয়মিত কর পরিশোধ করেন এবং কর-অনুগত, তাদের ওপর অতিরিক্ত করের চাপ সৃষ্টি করা উচিত নয়।।
মুদ্রাস্ফীতি সামাল ও বিনিয়োগে নতুন প্রাণ সঞ্চার: বাজেটের আসল লক্ষ্য কী?