Published : 06 Jun 2026, 06:12 AM
কলকাতার ধর্মতলায় এক প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "বাংলাদেশে কাদের মাধ্যমে খুন করানো হয়েছিল, তা আমি জানি!" এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ কার্যকারী দল (এসটিএফ)-এর প্রশংসা করেন এবং উল্লেখ করেন যে বাংলাদেশ থেকে এক বড় খুনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যার ফলে বাংলাদেশে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, এই খুনিরা মেঘালয় হয়ে বাংলায় প্রবেশ করত এবং এসটিএফ তাদের ধরে ফেলে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ কার্যকারী দল ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল এবং আলমগীর হোসেন নামে দুই মূল অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছিল। পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযুক্তরা মেঘালয় থেকে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছিল। এরপর নদিয়ার শান্তিপুরের কাছ থেকে ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ ফয়সাল করিম মাসুদকে এই হত্যাকাণ্ডের মূল অভিযুক্ত হিসেবে ঘোষণা করেছিল, তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিক কোন ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছেন, তা স্পষ্ট করেননি। মমতা অভিযোগ করেন, এই ঘটনার পর হোম মিনিস্টার তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে জানিয়েছিলেন যেন এই বিষয়টি বাইরে না আসে, কারণ এটি দেশের স্বার্থের বিষয়।
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, "কাকে দিয়ে খুন করানো হয়েছিল? কার নাম বেরিয়েছিল? আজ সরকার পরিবর্তন হলেও আমি সবটাই জানি। আমার হৃদয়ে সত্য ও তথ্যের ভান্ডার রয়েছে।" তিনি আরও অভিযোগ করেন যে দিল্লি থেকে কলকাঠি নেড়ে তৃণমূল কংগ্রেস ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবারের এই প্রতিবাদ মঞ্চে দলের শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভোট পরবর্তী সহিংসতা, বুলডোজার দিয়ে ভাঙচুর, হকার উচ্ছেদ এবং অন্যান্য অভিযোগ তুলে বর্তমান শাসক দল বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো হচ্ছে। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, "আমাদের সাংসদ, বিধায়ক, কাউন্সিলরদের ভয় দেখানো হচ্ছে। ভয় পাবেন না।
আমি সংবিধান রক্ষা করব এবং বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব। আমাদের কর্মীরা আক্রান্ত হয়েছে।" ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের প্রতিবাদে রানি রাসমণি অ্যাভিনিউতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিয়েছিল। তবে পুলিশের অনুমতি না পাওয়ায় এই বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের অন্যান্য নেতারা। ওই এলাকায় সকাল থেকেই কড়া পুলিশি নিরাপত্তা বলবৎ ছিল। তিনি এই প্রসঙ্গে বলেন, "শান্তিপূর্ণ একটি সভাকে আপনারা কারাগারে পরিণত করেছেন। আমাদের কর্মীদের আসতে দেওয়া হচ্ছে না।"।