Published : 22 Aug 2026, 04:16 PM
সিলেটের বিয়ানীবাজারের সোনাই নদীর বুকে অনুষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রথা বন্ধের দাবিতে 'তৌহিদী জনতা' নামে একটি পক্ষ জোর দাবি জানাচ্ছে। অন্যদিকে, আয়োজকরা এবং স্থানীয় বাসিন্দারা এই ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখতে সব বাধা উপেক্ষা করে প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করতে প্রস্তুত। এই পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে অনুমতি ছাড়া কোনো নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হবে না। আগামী ২৮ আগস্ট এই মহাযজ্ঞের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার লাউতা ইউনিয়নের লাউতা ও বাহাদুরপুর যুব সমাজের উদ্যোগে প্রতি বছর এই বার্ষিক নৌকাবাইচ পালিত হয় এবং অতীতে আয়োজকরা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হননি। কিন্তু এবার 'তৌহিদী জনতা'র ব্যানারে একটি পক্ষ এই ঐতিহ্য বাতিলের দাবি জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় তুলেছে, যা স্থানীয়দের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি করেছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় যুব সমাজ দীর্ঘদিন ধরে এই প্রতিযোগিতা আয়োজন করে আসছে। কিন্তু সম্প্রতি কিছু যুবক ফেসবুকে নৌকাবাইচের বিরুদ্ধে লেখালেখি শুরু করায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। অন্য এক বাসিন্দা বলেন, নৌকাবাইচ এলাকার মানুষের আনন্দের উৎস এবং শত শত মানুষ প্রতি বছর এটি উপভোগ করে। কিন্তু এখন 'তৌহিদী জনতার' নামে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত বৃহস্পতিবার বারিগ্রাম বাজারে 'তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন' একটি সভায় বসে প্রতিযোগিতা বাতিলের দাবি জানায়, যদিও আয়োজক পক্ষ তাদের অবস্থানে অনড়। নৌকাবাইচ আয়োজক কমিটির সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন যে, প্রস্তুতি পর্ব সম্পন্ন হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ে অনুষ্ঠান হবে। তিনি আরও জানান, প্রস্তুতির বিষয়ে তারা ইতিমধ্যেই মিটিং করেছেন এবং আরও আলোচনা চলছে।
লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। বর্তমান চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন অবশ্য জানান, ফেসবুকে পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে এবং বাধা দেওয়ার বিষয়টি শোনা হয়েছে, তবে তাঁর কাছে এর বিস্তারিত তথ্য নেই। অন্যদিকে, বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম জানিয়েছেন যে, উভয় পক্ষের দাবি থাকায় জেলা প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া কোনো নৌকাবাইচ হবে না বলে আয়োজকদের জানানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে হাবিবা মজুমদার বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন এবং নিশ্চিত করবেন।।