Published : 14 Aug 2026, 05:16 AM
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবার প্রথমবারের মতো প্রশান্ত মহাসাগরের বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জে সফর করেন। এই দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে রাশিয়া ও জাপানের মধ্যে দীর্ঘদিনের মালিকানা বিরোধ বিদ্যমান। এই দাবিগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে পুতিনের এই ভ্রমণ ঘিরে টোকিও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই সফরকে 'সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার পুতিন কুরিল দ্বীপপুঞ্জের একেবারে দক্ষিণের দ্বীপ ইতুরুপ পরিদর্শন করেন। জাপানে এই দ্বীপটি 'ইতসুরোফু' নামে পরিচিত। রুশ রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে তিনি আঞ্চলিক গভর্নরের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং মাছ প্রক্রিয়াকরণ কারখানা, হাসপাতাল ও স্কুলগুলোও পরিদর্শন করেন। জাপান দাবি করে যে কুরিল দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণের চারটি দ্বীপ নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে। তারা এই অঞ্চলগুলোকে 'উত্তরাঞ্চলীয় ভূমি' হিসেবে অভিহিত করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলোর দখল করে নেয়।
এরপর থেকে মস্কো এবং টোকিওর মধ্যে এই দ্বীপগুলোর সার্বভৌমত্ব নিয়ে সংঘাত চলতে থাকে। পুতিনের এই সফরের তীব্র বিরোধিতা করে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, এই ভ্রমণ 'জাপানি জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত হেনেছে'। তিনি আরও জানান, বর্তমান রুশ প্রেসিডেন্টের এই পদক্ষেপ জাপানের দীর্ঘদিনের অবস্থানের সম্পূর্ণ বিপরীত। জাপানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তোশিমিৎসু মোতেগিও এই বিতর্কিত দ্বীপগুলো ঐতিহাসিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতে জাপানের অবিচ্ছেদ্য অংশ বলে জোর দিয়ে বলেন। তিনি সমালোচনা করে বলেন, এই দ্বীপগুলো ঐতিহাসিকভাবে জাপানের ভূখণ্ডেরই অংশ এবং আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এগুলোর মালিকানা জাপানের প্রাপ্য। জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, পুতিনের সফরের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতে তারা জাপানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূতের কাছে তলব করেছে। ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে জাপান ও রাশিয়ার সম্পর্ক আরও শীতল হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে জাপান অন্যান্য জি-৭ভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং একই সাথে ইউক্রেনকে সহায়তা দিয়েছে। তবে পুতিন এই উত্তেজনাকে উসকানিমূলক মনে করেন না। উল্টো তিনি মন্তব্য করেন, 'জাপান রাশিয়াকে তাদের জন্য প্রধান হুমকি মনে করে।
কিন্তু আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই, আমরা জাপানের জন্য হুমকি নই; বরং তারা আমাদের ভূখণ্ডের ওপরই মালিকানা দাবি করে আসছে।' কুরিল দ্বীপপুঞ্জ মূলত কামচাটকা উপদ্বীপ থেকে জাপানের উত্তরতম দ্বীপ হোকাইডো পর্যন্ত বিস্তৃত একটি আগ্নেয় দ্বীপপুঞ্জের অংশ। এই অঞ্চলের চারটি দ্বীপ হলো কুনাশির, হাবোমাই, শিকোতান ও ইতুরুপ। জাপানে এগুলোর নাম যথাক্রমে কুনাশিরি, হাবোমাই, শিকোতান ও এতোেরোফু। ১৯৪৫ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন এই দ্বীপগুলো দখল করার পর সেখানকার প্রায় সতেরো হাজার জাপানি বাসিন্দাকে বিতাড়িত করেছিল। বর্তমানে এই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপপুঞ্জে প্রায় বিশ হাজার রুশ নাগরিক বসবাস করেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার এই দ্বীপগুলোতে সোনা ও রুপাসহ বিভিন্ন মূল্যবান খনিজের মজুত রয়েছে এবং সমুদ্রের জলসম্পদও সমৃদ্ধ। কুরিল দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণের আগে পুতিন বুধবার রাশিয়ার নিকটবর্তী সাখালিন দ্বীপগুলো পরিদর্শন করেন, যেখানে রুশ নৌবাহিনীর সামরিক মহড়া চলছিল। রুশ গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, সাখালিনে তিনি পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে একটি বৈঠক করেন এবং এরপরই তিনি বিতর্কিত কুরিল দ্বীপপুঞ্জে যান।।
আছিয়া হত্যা মামলা: মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির পক্ষে রাষ্ট্রীয় খরচে আইনজীবী নিয়োগ