Published : 14 Aug 2026, 08:17 AM
মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া হত্যা ও ধর্ষণের মামলায় এক গুরুত্বপূর্ণ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স এবং আপিলের শুনানির জন্য হাইকোর্ট আসামিপক্ষের পক্ষ থেকে সরকারি খরচে আইনজীবী নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছে। আদালতে হিটু শেখের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত না থাকায় অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান খানকে এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ প্রদান করেন। এই সিদ্ধান্তের পর ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম জানান, এনওসি (অনাপত্তিপত্র) দেওয়ায় শুনানির দ্বিতীয় দিনেই হাফিজুর রহমান খানকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) হিটু শেখের আপিল এবং ডেথ রেফারেন্স সংক্রান্ত শুনানি শুরু হয়েছিল। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৭ মে মাগুরা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিলেন।
এই মামলার অন্য তিন আসামি—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ এবং তাদের মা জাহেদা বেগম—খালাস পেয়েছেন।} ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, মাগুরা শ্রীপুর উপজেলার বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ২০২৫ সালের ৬ মার্চ শিশুটি ধর্ষণের শিকার হয়। সেই দিন তাকে মাগুরা সদর হাসপাতাল থেকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ এবং পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। ৮ মার্চ তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (CCM) নিয়ে যাওয়া হয়। চিকিৎসারত অবস্থায় ১৩ মার্চ শিশুটির মৃত্যু হয়। এর আগে ৮ মার্চ শিশুটির মা হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন এবং শিশুটির মৃত্যুর পর ওই মামলায় হত্যার অভিযোগও যুক্ত হয়।} মামলার প্রধান আসামি হিটু শেখ ১৫ মার্চ আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ তদন্ত শেষে ১৩ এপ্রিল অভিযোগপত্র জমা দেয়। সেই দিনই আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(২) ধারায় এবং অন্যান্য দণ্ডবিধির পৃথক ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করার আদেশ দেন। ২৭ এপ্রিল সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয় এবং রাষ্ট্রপক্ষের ২৯ জন সাক্ষীর বক্তব্য শোনার পর ৮ মে সাক্ষ্যগ্রহণ সমাপ্ত হয়। এরপর দুই দিনের যুক্তিতর্কের পর ১৭ মে ট্রাইব্যুনাল রায় প্রদান করে। রায়ের পর ডেথ রেফারেন্সসহ মামলার নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। গত জুন মাসে এই মামলার পেপারবুক হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় জমা পড়েছিল।।
৫ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ৮০০ কিমি গতি! চীনের বুলেট ট্রেনের অবিশ্বাস্য রেকর্ড