Published : 13 Aug 2026, 08:16 PM
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট করেছেন যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত ও জাপান সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি। তিনি জানান, এই সফরটি প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সময়সূচি এবং দুই দেশের মধ্যে চলমান দ্বিপক্ষীয় আলোচনার অগ্রগতি দ্বারা নির্ধারিত হবে। আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, 'বিভিন্ন দেশের সফরের বিষয়ে সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে। তবে, এটি সম্পূর্ণভাবে প্রধানমন্ত্রীর সময়রেখা এবং দুই দেশের আলোচনা কতদূর অগ্রসর হয়েছে তার ওপর নির্ভরশীল।' প্রধানমন্ত্রী ভারতে ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ সেশনে যোগ দেবেন নাকি দ্বিপক্ষীয় সফরে যাবেন— এই প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় রয়েছে। তিনি আরও বলেন, 'ব্রিকস এখনও অনেক দূর পথ বাকি। এক মাসের মধ্যে অনেক পরিবর্তন আসতে পারে।' পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে নতুন সাংবিধানিক কার্যক্রম এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অত্যন্ত ব্যস্ত আছেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালীন সময়ে দেশের অভ্যন্তরে বহু কর্মসূচি ও কার্যক্রম চলছে, যার ফলে সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী উভয়ই ব্যস্ত। তবে, তিনি জোর দিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয়ে সরকারের অবস্থান ইতিবাচক। সবকিছু অনুকূলে থাকলে ভারত সফর, জাপান সফর এবং অন্যান্য দেশের ভ্রমণ অবশ্যই ঘটবে। প্রস্তাবিত জাপান সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও সময় পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে নির্ধারণ করা হবে। ভারত সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-ভারতের বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব কিনা— এই প্রসঙ্গে শামা ওবায়েদ বলেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের সরাসরি আলোচনা হলে অমীমাংসিত বিষয়গুলো সমাধানের পথ প্রশস্ত হতে পারে। তিনি মনে করেন, যখনই দুই দেশের নেতারা কথা বলেন এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা করেন, তখনই সমস্যার সমাধানের সুযোগ তৈরি হয়, এবং সেই সুযোগ অবশ্যই উন্মুক্ত। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ভারতের কাছেও এই সুযোগের যথাযথ ব্যবহার করার আহ্বান জানান। ভারতে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্ত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন যে ঢাকা বিষয়টি আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, 'আমরা পূর্বে বলেছি, যখন কোনো সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ভারতের মাটিতে বসে কথা বলেন, তখন বাংলাদেশের জনগণ তা গ্রহণ করে না এবং এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখে না।' শামা ওবায়েদ মনে করিয়ে দেন যে জুলাই মাসের ঘটনা এখনো জনগণের মনে তীব্রভাবে বিদ্যমান। তাই জনগণের অনুভূতির প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়া প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, 'জুলাইয়ের স্মৃতি এখনও মানুষের মনে জীবন্ত। রক্তের দাগ এখনও শুকায়নি, তাই আমাদের অবশ্যই এই বিষয়ে অত্যন্ত সংবেদনশীল থাকতে হবে।' পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উপসংহারে বলেন, শীর্ষ রাজনৈতিক স্তরে সরাসরি আলোচনা দ্বিপক্ষীয় সমস্যা সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।।
ভারতের উন্নত প্রযুক্তির ১৯টি রেল কোচ আসছে বাংলাদেশে: ভিড়ের মধ্যেও সুরক্ষিত যাত্রার জন্য বিশেষ নকশা