Published : 06 Aug 2026, 08:16 PM
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জাতিসংঘের তথ্য-অনুসন্ধান (ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং) প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় প্রকাশ করতে জাতিসংঘ অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এর কারণ হিসেবে তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এ মৃত্যুদণ্ডের বিধান বিদ্যমান এবং জাতিসংঘের মৃত্যুদণ্ড বিরোধী নীতির কারণে এই অবস্থান নিয়েছে বলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আদালতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ দলটির সহযোগী সংগঠনের সাত নেতার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার দ্বিতীয় দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হোসেন তামিম এই তথ্য জানান। প্রসিকিউটর তামিম আদালতে বলেন, 'আইনে এখনও মৃত্যুদণ্ডের বিধান বহাল থাকায় আমরা জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উল্লেখিত প্রত্যক্ষদর্শীদের পরিচয় সংগ্রহ করতে পারিনি। কারণ জাতিসংঘ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুদণ্ডের বিরোধিতা করে।
' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই পরিস্থিতিতে প্রসিকিউশন নিজস্ব প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য আদালতের সামনে উপস্থাপন করেছে। শুনানিতে প্রসিকিউশন পক্ষ আরও জানায় যে, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর (ওএইচসিএইচআর) ইঙ্গিত দিয়েছে যে, যদি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধান বাতিল করা হয়, তবে তাদের প্রতিবেদনে ব্যবহৃত সাক্ষীদের তথ্য সরবরাহ করার বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে। যুক্তিতর্ক চলাকালীন প্রসিকিউটর তামিম ওএইচসিএইচআরের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে, ২০২৪ সালের ১৪ থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের সশস্ত্র কর্মীরা আন্দোলনকারীদের ওপর আক্রমণ করে। শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রসিকিউটর তামিম মন্তব্য করেন, 'নিরাপত্তাজনিত কারণে জাতিসংঘ সাধারণত সাক্ষীদের পরিচয় প্রকাশ করে না।
তবে আমাদের ধারণা, বাংলাদেশের আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান থাকাও এই ক্ষেত্রে একটি বড় কারণ।' উল্লেখ্য, এই মামলায় ওবায়দুল কাদের ছাড়াও অন্যান্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এএফএম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।।
পুলিশকে আমরাই পিটিয়ে রক্তাক্ত করেছিলাম: এনসিপি নেতার বিস্ফোরক দাবি