Published : 06 Aug 2026, 04:16 PM
আগুন লাগার কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ থাকা মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনাল অবশেষে আবার প্রাণ ফিরে পেল। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোররাত থেকে জাতীয় গ্রিডে ধাপে ধাপে গ্যাস সরবরাহ শুরু হওয়ায় চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের গ্যাস পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এই পুনরুদ্ধার কাজের ফলে সিএনজি স্টেশন এবং সাধারণ আবাসিক গ্রাহকদেরও স্বস্তি মিলছে। অনেক এলাকায় সিএনজি স্টেশনের দীর্ঘ লাইন কমে এসেছে এবং গ্যাসের চাপ স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে এসেছে। পেট্রোবাংলার উপ-মহাব্যবস্থাপক (উৎপাদন ও বিপণন) প্রকৌশলী মো. শহীদুল হক টিবিএসকে জানিয়েছেন, মহেশখালীর ক্ষতিগ্রস্ত টার্মিনালের মেরামত কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং বর্তমানে তা পর্যবেক্ষণ মোডে পরিচালিত হচ্ছে। আজ ভোররাত থেকেই ধীরে ধীরে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে।
পূর্বে সচল থাকা টার্মিনাল থেকে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ঘনফুট এবং মেরামত শেষে চালু হওয়া টার্মিনাল থেকে প্রায় ২৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, কারিগরি দিকগুলো পর্যবেক্ষণ করে সরবরাহ আরও বাড়ানো হবে এবং সবকিছু স্বাভাবিক হলে খুব দ্রুতই টার্মিনালটি তার পূর্ণ সক্ষমতায় চলে আসবে। গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় চট্টগ্রামের সিএনজি স্টেশনগুলোতেও দৃশ্যমান উন্নতি দেখা যাচ্ছে। নগরীর মুরাদপুর এলাকার ফসিল পেট্রোল পাম্পের ব্যবস্থাপক মো. ফখরুদ্দীন ইসলাম শিমুল টিবিএসকে জানান, গতকাল রাত থেকে গাড়ির চাপ কিছুটা কমেছে। সংকটের সময় যেখানে পাম্পে গ্যাসের চাপ ১৫০ থেকে ১৭০-এর মধ্যে ওঠানামা করছিল এবং স্বাভাবিক রিডিং ছিল ২২০, সেখানে এখন চাপ স্থিতিশীল রয়েছে এবং গাড়ি ভরার সময়ও অনেক কম লাগছে। আবাসিক গ্রাহকরাও এই পরিস্থিতির উন্নতির কথা জানিয়েছেন।
নগরীর হামজারবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. হাসান টিবিএসকে বলেন, সকাল থেকে বাড়িতে মোটামুটি স্বাভাবিক গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে এবং রান্নার কাজও ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পূর্বে ২১ জুলাই মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর থেকে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন এবং সাধারণ গ্রাহকরা তীব্র সংকটে ছিল। টার্মিনালটি পুনরায় চালু হওয়ায় এই সংকট ধীরে ধীরে কেটে যাওয়ার আশা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।।
পাইপলাইন দিয়ে আরও বেশি ডিজেল চেয়েছেন ভারত: জ্বালানি মন্ত্রীর বক্তব্য