Published : 06 Aug 2026, 08:16 AM
নয়াদিল্লিতে সরাসরি গণমাধ্যমের সঙ্গে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আলাপচারিতা বাংলাদেশের জন্য গভীর ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এই ঘটনাকে সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত এবং ভারত-বাংলাদেশের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের পথে বাধা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে সরকার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে স্পষ্ট করে দেয় যে এই পদক্ষেপ দেশের মর্যাদা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অসম্মানজনক। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কর্তৃক জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, 'পলাতক ও সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী' শেখ হাসিনাকে সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ অত্যন্ত ক্রুদ্ধ। তারা আরও উল্লেখ করে যে এই আলোচনা বাংলাদেশের রাষ্ট্র এবং জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছে। ঢাকা জানিয়েছে, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় এমন কোনো অনুষ্ঠান কীভাবে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আগেই উদ্বেগ জানানো হয়েছিল।
তা সত্ত্বেও এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশ গভীর দুঃখ প্রকাশ করছে। মন্ত্রণালয় আরও জানায়, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকীর দিনে এই আয়োজনটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি এক চরম অবমাননা এবং শহীদদের প্রতি চরম অপমান। তারা জোর দিয়ে বলেছে যে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণহত্যা সংক্রান্ত তথ্য অস্বীকার করে ইতিহাস মুছে ফেলার একটি ব্যর্থ প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় পুনর্ব্যক্ত করেছে যে বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এমন জঘন্য চেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনও তা প্রত্যাখ্যান করে চলেছে। জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে মন্ত্রণালয় ঘোষণা করে যে, বাংলাদেশের জনগণ সংকল্পবদ্ধ যে দেশটি আর কখনোই ফ্যাসিবাদের কালো অধ্যায়ে ফিরে যাবে না এবং কোনো দেশের অনুগত রাষ্ট্র হবে না। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের স্থান বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর কখনো থাকবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পুনরায় অঙ্গীকার করেছে যে, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে 'গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যৎমুখী সম্পর্ক' বজায় রাখা অপরিহার্য। তবে একইসঙ্গে তারা মনে করিয়ে দেয় যে ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে ঢাকার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও কোনো সাড়া মেলেনি। শেষত, মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায় যে, যেকোনো অজুহাতে তাকে প্রকাশ্য সংবাদমাধ্যমে কথা বলার সুযোগ দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিকে গভীরভাবে আঘাত করেছে এবং তা বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নের পথে ক্ষতিকর।।
কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভে ভূমিধস: রোহিঙ্গা শিবিরে শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু, যান চলাচল বিপর্যস্ত