Published : 05 Aug 2026, 10:16 PM
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব ও সংসদ সদস্য আখতার হোসেন সম্প্রতি একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রদর্শিত প্রামাণ্যচিত্র নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর অভিযোগ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরকার কর্তৃক তৈরি করা চলচ্চিত্রটিতে ইচ্ছাকৃতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি বাদ দেওয়া হয়েছে এবং আন্দোলনের প্রকৃত চিত্রটি অসম্পূর্ণভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে এই অনুষ্ঠান থেকে বেরিয়ে আসার পর তিনি এক জাতীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটি কোনো দলীয় সমাবেশ ছিল না, বরং একটি রাষ্ট্রীয় আয়োজন। তাঁর মতে, প্রদর্শিত চলচ্চিত্রটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সম্পূর্ণ প্রেক্ষাপট উপস্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই সংবর্ধনা ও আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। আখতার হোসেন আরও বলেন, প্রামাণ্যচিত্রে ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বিশাল সমাবেশ বা সেখানে দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণার কোনো উল্লেখ নেই। এর পরিবর্তে তারেক রহমানের একটি অনলাইন বক্তব্যকে এক দফা দাবির ঘোষণা হিসেবে দেখানো হয়েছে।
তিনি মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন, কিন্তু তাঁর বিশ্বাস, যারা এটি তৈরি করেছেন তারা ইচ্ছাকৃতভাবেই ইতিহাসকে বিকৃত করেছেন। প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনের পরপরই অনুষ্ঠানে উপস্থিত জুলাই শহীদদের স্বজন এবং এনসিপির কর্মীরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানান। আখতার হোসেন জানান, পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করার সময় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন বিরূপ মন্তব্য করেন এবং তাঁর সমর্থকরা আক্রমণাত্মক আচরণ শুরু করে। এই পরিস্থিতিতে তারা অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নেন এবং সেখান থেকে চলে যান। জাতীয় যুবশক্তির সভাপতি অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে আরও অভিযোগ করেন যে, প্রামাণ্যচিত্রে এনসিপি বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অগ্রভাগে থাকা কোনো নেতার স্থান দেওয়া হয়নি। বরং তারেক রহমানের একটি অনলাইন বক্তব্যকে এক দফা দাবির উৎস হিসেবে দেখানো হয়েছে। তারিকুল বলেন, ইতিহাস বিকৃত করার অধিকার কারো নেই।
গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে এমনভাবে ইতিহাস উপস্থাপন করা হয়েছে যেখানে আন্দোলনের মূল নেতাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। এই কারণেই তারা অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। প্রতিবাদ জানানোর সময় ইশরাক হোসেন মাইকে নেতিবাচক মন্তব্য করেন। তারিকুলের দাবি, এর জবাবে জুলাই শহীদদের কিছু স্বজন ও আহত আন্দোলনকারী ইশরাকের মুখোমুখি হন এবং এরপর তাদের অনুসারীরা এনসিপির নেতাদের দিকে তেড়ে যান।।
গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটে ছুটি, ঘরমুখো শ্রমিকদের ভিড়ে মহাসড়কে তীব্র চাপ