Published : 03 Aug 2026, 02:17 AM
বাংলাদেশ এবং পাপুয়া নিউগিনির (পিএনজি) মতো দেশগুলোর জন্য দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় জোট আসিয়ানের সদস্যপদ লাভ করা কার্যত অসম্ভব। এর প্রধান কারণ হিসেবে এই জোটের শীর্ষ কর্মকর্তা সাফ জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় ভৌগোলিক অবস্থানগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় এই দুই দেশের আসিয়ান পরিবারে যোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম জাকার্তা গ্লোবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দীর্ঘকাল ধরে বাংলাদেশ ও পিএনজি আসিয়ানে যোগ দিতে আগ্রহী হলেও তা সম্ভব হয়নি। এমনকি সদস্য রাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়াও পিএনজিকে সমর্থন দিয়েছিল। কিন্তু সম্প্রতি আসিয়ানের মহাসচিব কাও কিম হর্ন নিশ্চিত করেছেন যে জোটের সর্বশেষ সদস্য হিসেবে কেবল পূর্ব তিমুরই জায়গা পাচ্ছে এবং আর কারো অন্তর্ভুক্ত হবে না। ম্যানিলায় দশম আসিয়ান মিডিয়া ফোরামে তিনি বলেন, 'আমাদের জোট সম্প্রসারণ এখানেই শেষ।' তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, 'আসিয়ান চার্টার অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত দেশের সংখ্যা মাত্র এগারোটি। এই সীমা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
পিএনজি ও বাংলাদেশ এই ভৌগোলিক সীমানার বাইরে অবস্থান করে।' আসিয়ান চার্টারই এই জোটের আইনি ভিত্তি। এই নথিতে নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হলো সদস্য দেশকে অবশ্যই 'দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় অবস্থিত স্বীকৃত ভৌগোলিক অঞ্চল' হতে হবে। ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে পিএনজি ওশেনিয়া মহাদেশের অংশ, আর বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ায়। ঢাকা ও পোর্ট মোর্সবির সামনে এখন আসিয়ানে প্রবেশের একমাত্র পথ হলো এই জোটের চার্টার সংশোধন করা। তবে সনদে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে সকল সদস্য রাষ্ট্রের সর্বসম্মত অনুমোদন প্রয়োজন। কাও বলেন, 'যতক্ষণ না সদস্য দেশগুলো সনদ সংশোধন করে ভূগোলের নতুন সংজ্ঞা নির্ধারণ করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া (বা আসিয়ান) এই এগারোটি দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।' গত বছর অবশেষে আসিয়ানে বহুল প্রতীক্ষিত সদস্যপদ লাভ করে পূর্ব তিমুর।
২০১১ সাল থেকে তারা এই জোটের সদস্য হতে চেয়েছিল। প্রক্রিয়াটি এতই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর ছিল যে পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট হোসে রামোস-হোর্তা রসিকতা করে বলেছিলেন, 'আসিয়ানের দরজা পার হওয়ার চেয়ে বরং স্বর্গে যাওয়া সহজ।' গত বছর আসিয়ানের সভাপতিত্ব মালয়েশিয়ার হাতে ছিল। সেই সময় ঢাকা কুয়ালালামপুরের সমর্থন আদায়ের জন্য তদবির চালিয়েছিল। অন্যদিকে পিএনজির সদস্যপদের পক্ষে প্রকাশ্যে সমর্থন ঘোষণা করেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো। ২০২৫ সালের কুয়ালালামপুর আসিয়ান বৈঠকে প্রাবোও প্রস্তাব দেন, 'আমরা আমাদের এক ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর অংশগ্রহণের প্রস্তাব দিতে চাই, সেটি হলো পিএনজি।' ১৯৭৬ সাল থেকে পিএনজি পর্যবেক্ষকের মর্যাদা ভোগ করে আসছে এবং তারা জোটের বিভিন্ন বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়।।
সৌদি জোটে যোগদানের কারণ কৌশলগত সম্পর্ক, ইরানকে লক্ষ্য নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য