Published : 03 Aug 2026, 12:16 AM
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির স্পষ্ট করেছেন যে সৌদি আরবের নেতৃত্বে সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে বাংলাদেশের যোগদান কোনোভাবেই ইরানের বিরুদ্ধে কোনো আঘাত বা লক্ষ্যবস্তু নয়। বরং এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো সৌদি আরবের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক আরও মজবুত করা এবং হুথি বাহিনীর হুমকি মোকাবিলায় সম্মিলিত সহযোগিতা প্রদান করা। আজ রোববার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি আরও বলেন, আমরা ইরানের সঙ্গেও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই এটিকে ইরানকে বাদ দেওয়া বা আঘাত করার কোনো কারণ হিসেবে দেখা উচিত নয়। কবির জোর দিয়ে বলেন, সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক অত্যন্ত বিশেষ এবং গভীর। এই সম্পর্ক কেবল হজ, ওমরাহ বা তীর্থযাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; এটি একটি কৌশলগত বন্ধন।
ঢাকা ও রিয়াদের সম্পর্ক হবে অত্যন্ত শক্তিশালী এবং কৌশলগত প্রকৃতির। কবির উল্লেখ করেন যে সৌদি আরব ইসলাম ধর্মের দুটি পবিত্র স্থান—মক্কা ও মদিনার রক্ষক। এই ঐতিহাসিক ও আত্মিক সম্পর্কের কারণেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের বিশেষ সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি নিশ্চিত করেন যে, যদি কোনো সময় সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রয়োজনে সহযোগিতা চাওয়া হয়, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম দেশ হিসেবে বাংলাদেশ সর্বদা পাশে থাকবে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক প্রসঙ্গে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট সার্জিও গরের ঢাকা সফর ছিল মূলত পরিচিতিমূলক ও অনুসন্ধানমূলক। এই সফরের প্রধান লক্ষ্য ছিল দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। তিনি জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সার্জিও গরের বৈঠক অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং ভূরাজনীতিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সফর শেষে সার্জিও গর প্রকাশ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের 'সর্বোচ্চ সম্মান' রয়েছে বলে মন্তব্য করেন, যা দুই দেশের মধ্যেকার গভীর আস্থা ও সম্পর্কের প্রতিফলন ঘটায়। তিনি আরও যোগ করেন যে, বর্তমান মার্কিন প্রশাসন এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টেকসই বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বাংলাদেশকে তারা একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করছে। তার মতে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেশগুলোর সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে এবং 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির ভিত্তিতে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। চীন বিনিয়োগ সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির জানান যে এই বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশে যেমন চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোরও উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ রয়েছে। সরকার কোনো পক্ষের সঙ্গে বিরোধে না গিয়ে সকল অংশীদারের সঙ্গে সমতা বজায় রেখে বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে চায়।।