Published : 30 Jul 2026, 10:16 AM
লোহিত সাগরের দক্ষিণাঞ্চলে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠী এবার একটি নতুন পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত। তাদের পরিকল্পনা হলো, বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ফি বা শুল্ক আরোপ করা। এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে ইরানের পরামর্শ এবং আঞ্চলিক ক্ষমতার ভারসাম্যের দিকে নজর। উল্লেখ্য, ইরান সমর্থিত হুথিরা ২০ জুলাই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সামুদ্রিক অবরোধ ঘোষণা করে যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দেয়। এই পদক্ষেপের পর তারা উপসাগরের বাইরে জ্বালানি ও অন্যান্য পণ্য বহনকারী ট্যাংকারে হামলা বাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্রগুলো ইঙ্গিত দেয় যে, লোহিত সাগরের দক্ষিণাংশকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে সংযুক্ত করা সংকীর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালীর ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।
যদিও এই ব্যবস্থা কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি। হুথিদের গণমাধ্যম কার্যালয় এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে তেহরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কিছু আঞ্চলিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, জুলাই মাসে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় অংশ নিতে হুথি কর্মকর্তারা ইরান সফর করেন। সেই সফরেই বাব আল-মান্দেব প্রণালীর জাহাজের ওপর ফি আরোপের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক নৌপথে শুল্ক আরোপকে একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা এবং একই সাথে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করা। যদিও চীনকে এই ফি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং হুথিরা এই ব্যবস্থার প্রতি ইতিবাচক মনোভাব দেখাচ্ছে।
কিছু আরব কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তেহরান থেকে ফেরার পথে হুথি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে কয়েকজন ইরানি উপদেষ্টা ইয়েমেনে যান। তারা বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ফি আদায়ের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কর্তৃপক্ষের গঠনের পরামর্শ দিচ্ছেন। ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের মনোনীত পররাষ্ট্রমন্ত্রী আফরাহ আল-জৌবা রয়টার্স বলেন, হুথিরা লোহিত সাগরের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে চায় এবং সফল হলে জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায় করার চেষ্টা করবে। পশ্চিমা কূটনীতিকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলো ও ইউরোপের তীব্র বিরোধিতার মুখে পড়বে। বর্তমানে আন্তর্জাতিক নৌবাহিনী অতিরিক্ত চাপের মধ্যে থাকায় বাণিজ্যিক জাহাজকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা দিতে পারছে না, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে।।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের সমঝোতা: মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের প্রসঙ্গ আনোয়ার ইব্রাহিমের বার্তা