Published : 02 Aug 2026, 10:16 PM
দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ঘাটতি মেটানোর লক্ষ্যে আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইনের মাধ্যমে মিয়ানমার থেকে প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাবটি আজ রবিবার (২ আগস্ট) সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিউ সো মো-র এক বৈঠকে উত্থাপন করা হয়। বৈঠকে সরকারের 'প্রতিবেশী প্রথম' পররাষ্ট্রনীতির প্রতি অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে জ্বালানিমন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে নিকটতম প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলোর সাথে জ্বালানি সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা বাংলাদেশের জন্য একটি অপরিহার্য কৌশলগত পদক্ষেপ। এই প্রস্তাবের প্রতি মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়ে পাইপলাইনের পাশাপাশি তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার পরামর্শ দেন, যা জ্বালানিমন্ত্রী স্বাগত জানান।
আলোচনার মাধ্যমে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি একটি বিশেষ গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটাতে নতুন আশার সঞ্চার হয়। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের শিল্প কেন্দ্রগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। আলোচনার ধারাবাহিকতায় জ্বালানিমন্ত্রী মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের প্রস্তাব দেন এবং মিয়ানমারের জ্বালানিমন্ত্রীকে ঢাকা সফরের আমন্ত্রণ জানানোর প্রস্তাব করেন। জ্বালানি সংক্রান্ত এই উদ্যোগকে বৃহত্তর আঞ্চলিক সহযোগিতার সঙ্গে যুক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর এবং প্রস্তাবিত চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডোরের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আন্তঃসীমান্ত পাইপলাইন স্থাপন আঞ্চলিক অবকাঠামো উন্নয়নে সহায়ক হবে এবং দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও মজবুত করবে।
এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত কিউ সো মো সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার যৌথ কারিগরি কমিটির সভা আহ্বান করার সুপারিশ করেন। এই বৈঠকে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব মিরানা মাহরুখসহ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।।
সৌদি জোটে যোগদানের কারণ কৌশলগত সম্পর্ক, ইরানকে লক্ষ্য নয়: পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য