Published : 19 Jul 2026, 02:13 PM
নির্বাচন কমিশন (ইসি)-এর কাছে দলের বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব দাখিল করেছে বিএনপি। দলটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ আর্থিক বছরে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ১৯ লক্ষ ৬৫ হাজার ১৮২ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ২৬ লক্ষ ১০ হাজার ৮৫৭ টাকা। এই হিসাব অনুযায়ী, দলের তহবিলে ৬ কোটি ৯৩ লক্ষ ৫৪ হাজার ৩২৫ টাকার উদ্বৃত্ত রয়েছে। এই প্রতিবেদনটি আনুষ্ঠানিকভাবে জমা দেওয়ার জন্য আজ রোববার দুপুর ১২টার পর বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে উপস্থিত হয়। দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের এই প্রতিনিধিদলে দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন ছিলেন।
তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলের নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন। হিসাব জমা দেওয়ার পর রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেন যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কারা অংশ নিতে পারবে, তা নির্বাচন কমিশন ও আদালতের এখতিয়ারভুক্ত। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর প্রতি বিএনপির সমর্থন থাকবে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। তিনি আরও যোগ করেন, "খুব শীঘ্রই বিএনপির কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে। প্রতি বছরের মতো এবারও দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হয়েছে এবং গণতান্ত্রিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ৩১ জুলাইয়ের আগেই এই হিসাব জমা দেওয়া হয়েছে।
" সাধারণত রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আয় দেখায় সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীর অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির মাধ্যমে। অন্যদিকে, ব্যয় খাতে সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশ, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয় রক্ষণাবেক্ষণ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং অসচ্ছল নেতা-কর্মীদের সহায়তার খাতে অর্থ খরচ দেখানো হয়। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের নিরীক্ষিত প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে জমা দিতে বাধ্য থাকতে হয়। যদি কোনো দল টানা তিন বছর এই হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।।