Published : 20 Jul 2026, 02:15 AM
প্রধানমন্ত্রীর সুস্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও, সুবিধাভোগী সরকারি কর্মচারীদের মোটরযানের রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কেন ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত বহাল থাকছে? এই আর্থিক অসঙ্গতির পিছনে কোন অদৃশ্য শক্তির প্রভাব কাজ করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটির মতে, বিশেষ সুবিধাভোগী আমলাদের অন্যায্য প্রভাবের কাছে সরকার নতি স্বীকার করেছে। আজ রোববার (১৯ জুলাই) এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান মন্তব্য করেন, সুদমুক্ত ঋণের মাধ্যমে গাড়ি কেনার খরচ অর্ধেক কমিয়ে ২৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার এবং সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ছিল প্রশংসার দাবিদার। এই সিদ্ধান্তের মূল ভিত্তি ছিল বৈষম্য নিরসন এবং জনগণের অর্থ অপচয় কমানো। কিন্তু বাস্তবে, এই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো কিছু সুবিধাবাদী গোষ্ঠীর প্রভাবে অকার্যকর হয়ে যাচ্ছে। ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সর্বোচ্চ পর্যায়ের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও কেন এই ব্যয়-কৃচ্ছতার নীতি থেকে সরকারকে সরে আসতে হচ্ছে? এই পরিস্থিতি চিহ্নিত করা এবং এদের সুবিধাবাদী মনস্তত্ত্ব অনুধাবন করা সরকারের জন্য অপরিহার্য।
টিআইবি আরও আলোকপাত করে যে, শুরু থেকেই তথাকথিত প্রাধিকারপ্রাপ্ত কর্মচারীদের যে উদ্দেশ্যমূলক শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছিল, তা ছিল বঞ্চনা ও বৈষম্যের সৃষ্টি। মাত্র ২ হাজার ৪ শত কর্মচারীর বাইরে একই ক্যাডার ও সমমর্যাদাভুক্ত অন্যান্য সার্ভিসে কর্মরতদের জন্য এই সুযোগ ছিল অত্যন্ত বৈষম্যমূলক। এই পক্ষপাতদুষ্ট সুযোগ সরকারি খাতে আন্তঃ-ক্যাডার ভারসাম্যকে মারাত্মকভাবে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, কিছু কর্মচারীর জন্য এই সুবিধা বহাল থাকার ফলে একদিকে যেমন নির্দিষ্ট পদ ও পদবির জন্য অসুস্থ প্রতিযোগিতার সৃষ্টি হচ্ছে, তেমনি বঞ্চিতদের স্বাভাবিক কর্মস্পৃহা ধ্বংস হচ্ছে। এই বৈষম্যমূলক ব্যবস্থা টিকিয়ে রেখে প্রতি মাসে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ খরচ গ্রহণের চর্চা কতটা যৌক্তিক, তা পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার ও জ্বালানি ব্যয় বহনের সিদ্ধান্ত থেকে এক শ্রেণির আমলাসহ বিভিন্ন সংস্থার যারা এই সুবিধা ভোগ করে আসছেন, তারা কি কোনো ইতিবাচক শিক্ষা গ্রহণ করতে পেরেছেন? টিআইবির নির্বাহী পরিচালক প্রশ্ন তোলেন।
জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনা করে সরকার ইতোমধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সম্পদবিবরণী প্রকাশের সুপারিশও গৃহীত হয়নি। ফলে নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পর জনগণ কতটা দুর্নীতিমুক্ত সেবা পাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় আর্থিক সংকটের প্রেক্ষাপটে এক শ্রেণির সুবিধাবাদী সরকারি কর্মচারীদের অসন্তোষের মুখে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে অবজ্ঞা প্রদর্শন করা কোনো দাবি বা আবদারের বিষয় নয়। বরং এটি সেই আমলাতন্ত্রের বহিঃপ্রকাশ, যা ক্ষমতার কাছে অসহায়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছে।।
ঐক্যবদ্ধতার বার্তা: শরিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভেদ নেই, বললেন তারেক রহমান