Published : 20 Jul 2026, 04:13 AM
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে ২০১৩ সালের ৫ মে রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলি ছিল সুপরিকল্পিত এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্যভিত্তিক। তিনি রোববার (১৯ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বক্তব্য দেন। প্রসিকিউটর জানান, এই সংগঠনটিকে সম্পূর্ণভাবে নির্মূল করার জন্য বিভিন্ন পরিকল্পনা করা হয়েছিল, এবং সেই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনাটি ছিল একটি পদ্ধতিগত অপরাধ, যেখানে ব্যাপক ও লক্ষ্যভিত্তিক হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। এই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছিল, কারণ ব্লগারদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলাকালীন রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অবস্থান থেকে এই সংগঠনটিকে নিশ্চিহ্ন করার পরিকল্পনা করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা দীর্ঘদিন ধরে এই নারকীয় হত্যাকাণ্ডের গভীরে অনুসন্ধান করেছে এবং তাদের কার্যালয়ে একটি খসড়া প্রতিবেদন জমা পড়েছে।
এই প্রতিবেদনটি এখন পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত যাচাই-বাছাইয়ের জন্য প্রস্তুত। প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, একটি স্বচ্ছ বিচার নিশ্চিত করতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে এই তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই প্রেক্ষাপটে, হেফাজতে ইসলামের শীর্ষ নেতাদের বিষয়ে আজ খসড়া প্রতিবেদনটি পর্যালোচনা করা হয়েছে এবং শীঘ্রই পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের আশা করা হচ্ছে। আসামিদের তালিকা প্রসঙ্গে আমিনুল ইসলাম স্পষ্ট করেন যে, চূড়ান্ত প্রতিবেদন হাতে না আসা পর্যন্ত আসামিদের নাম প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে তিনি উল্লেখ করেন যে, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই মামলার প্রধান আসামি এবং তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। এছাড়াও সাবেক পুলিশপ্রধান, বিজিবি প্রধানসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধেও খসড়া প্রতিবেদন এসেছে, যা যাচাই-বাছাই করা হবে।
প্রসিকিউটর আরও বলেন, খসড়া প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর আসামিদের তালিকা সংযোজন বা বিয়োজন হতে পারে। হেফাজত ইসলামের নেতারা এই ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী এবং তারা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত। তিনি নিশ্চিত করেন যে, কে আসামি হবেন, তা কেবল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়েরের পরেই জানা যাবে। নিহতদের তালিকা প্রসঙ্গে তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৬১ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় ইতোমধ্যে নিশ্চিত করা হয়েছে। বাকিদের পরিচয় এখনও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি, তবে ৬১ জনের তালিকা তাদের কাছে রয়েছে।।
ঐক্যবদ্ধতার বার্তা: শরিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও বিভেদ নেই, বললেন তারেক রহমান