Published : 16 Jul 2026, 01:16 PM
মানসিক অস্থিরতা ও গভীর বিষাদে যখন জীবন যেন অর্থহীন মনে হচ্ছিল, ঠিক তখনই নাঈম তুষারের জীবনে এলো এক অপ্রত্যাশিত মোড়। আত্মহত্যার চিন্তা তাঁকে গ্রাস করেছিল, কিন্তু এক সিনেমার জগতে প্রবেশ করে তিনি খুঁজে পেল নতুন জীবনের অর্থ। এই সিনেমাটি ছিল ‘অতল’। যুবরাজ শামীম পরিচালিত এই সৃষ্টি ৪৮তম মস্কো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ‘অতল’-এর প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন নাঈম। তিনি বলেন, "হঠাৎ করে এই ছবির শুটিংয়ে যুক্ত না হলে হয়তো আমার জীবন ভিন্ন পথে চালিত হতো। ‘অতল’ আমাকে নিথর জীবন থেকে টেনে বের করে এনেছে এবং নতুন করে বাঁচতে শিখিয়েছে।" নাঈমের এই অভিজ্ঞতার গভীরে জানতে চাইলে, তিনি জানান, এই পথচলার শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের দিকে। কোভিড-পরবর্তী সময়ে যখন অনেকেই এলোমেলো হয়ে পড়ছিলেন, তখন পরিচালক যুবরাজ শামীমের সঙ্গে তাঁর দেখা হয়। নাঈম জানান, সেই সময়ে শামীম ভাইও ব্যক্তিগত কষ্টের মধ্যে ছিলেন। দুজনের মানসিক অস্থিরতা তখন তীব্র ছিল। ঠিক সেই সময়ে শামীম ভাই প্রস্তাব দেন, তাদের দুজনের অনুভূতি ও যন্ত্রণা যেন পর্দায় ফুটিয়ে তোলা হয়।
শামীম ভাইয়ের একটি স্কুটি ব্যবহার করে তারা গাজীপুরের প্রত্যন্ত অঞ্চল ঘুরে শুটিংয়ের জন্য স্থান নির্বাচন করতেন। তাঁর কথায়, "খারাপ সময়কে জয় করতে আমরা ফ্রেম বেছে নিই। সেই মুহূর্তের অনুভূতিগুলো ক্যামেরার মাধ্যমে প্রকাশ পায়। ধীরে ধীরে গল্পের মধ্যে আমরা মিশে যাই, সময়ের সঙ্গে সৃজনশীল এই কাজে গভীরভাবে জড়িয়ে যাই এবং স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসি। শিল্পমাধ্যম যেকোনো কিছু থেকেই মুক্তি দিতে পারে, আর এই সিনেমাটি আমার জীবনকে দ্বিতীয়বার বাঁচিয়েছে।" আত্মহত্যার চিন্তা নাঈমের জীবনে প্রথম নয়। ২০০০ সালের দিকে তিনি মাদকের জালে জড়িয়ে পড়েন এবং টানা ছয় বছর সেই জীবন যাপন করেন, যেখানে বেঁচে থাকার কোনো কারণ খুঁজে পাননি। তবুও তিনি হাল ছাড়েননি। তিনি মাদকাসক্তদের পাশে দাঁড়াতে শুরু করেন এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসেন। পড়াশোনায় মনোযোগ দেন এবং পেশা হিসেবে ফটোগ্রাফিকে বেছে নেন। পাশাপাশি তিনি মাদকাসক্তদের জন্য ‘আমার হোম’ নামে একটি নিরাময় কেন্দ্র গড়ে তোলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, মাদকাসক্তি থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তিনি অনুভব করেন যে তিনি অন্যদেরও দ্বিতীয় জীবন দিতে পারেন।
কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে সহায়তা করে তিনি অনেক মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে আনন্দ পান। ‘দুবার আত্মহত্যার পথে হেঁটে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার অভিজ্ঞতা কেমন?’ এই প্রশ্নের উত্তরে নাঈম বলেন, "অভিজ্ঞতা হলো জীবনের কঠিন পরীক্ষা। ঘুরে দাঁড়ানোই আসল কথা। প্রতিবার যখন মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে আসি, তখন মনে হয় জীবন একটাই, আমাকে অবশ্যই এগিয়ে যেতে হবে। এখন আমার কাছে জীবন এক আধ্যাত্মিক যাত্রা, যে পথ কোনোরहीं বলতে পারে না। কারও জন্য কিছু করাটাই বেঁচে থাকার আসল অর্থ। আমার আগের সিদ্ধান্তগুলো হয়তো ভুল ছিল।" সবশেষে নাঈম জানান, অভিনয় তাঁকে জীবন দিলেও তা তাঁকে আকর্ষণ করে না। তিনি ক্যামেরা এবং চিত্রগ্রহণের প্রতি গভীর অনুরাগ অনুভব করেন। বর্তমানে তিনি ‘এক ঋতুর অনন্তকাল’ নামে একটি সিনেমা নিয়ে কাজ করছেন এবং তা পরিচালনাও করছেন যুবরাজ শামীম।।