Published : 09 Jul 2026, 07:48 AM
প্রকৃতির অপার দানস্বরূপ কক্সবাজারের দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত কেবল দেশের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রই নয়, এটি এক অনন্য পরিবেশগতভাবে সংবেদনশীল অঞ্চল। পরিবেশ আইন এবং উচ্চ আদালতের সুস্পষ্ট নির্দেশ সত্ত্বেও, এই সৈকতের জোয়ার-ভাটার অঞ্চলের ৩০০ মিটার বালিয়াড়িতে কোনো প্রকার নির্মাণ বা স্থাপনা করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু গভীর উদ্বেগের বিষয় হলো, আইন ও আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করে সৈকত এলাকাগুলো অবৈধ দখলদারদের অবাধ চত্বরে পরিণত হয়েছে। উচ্ছেদের পরপরই দখলবাজি নতুন করে শুরু হয়ে যায়। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত মার্চ মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশ এবং উচ্চ আদালতের চাপ সত্ত্বেও যৌথ বাহিনী সুগন্ধা পয়েন্টের বালিয়াড়ি থেকে ৯৩০টি অবৈধ দোকানপাট সরিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই অভিযান সত্ত্বেও, বিশেষত ঈদুল আজহার ছুটির সময়, এক সপ্তাহের মধ্যে সেখানে আবারও রাতারাতি চাকাযুক্ত কয়েকশো দোকান বসিয়ে ফেলা হয়েছে, যার সংখ্যা বর্তমানে আট শতাধিক।
এখন দিনরাত সেখানে চলছে কোটি টাকার বেআইনি বাণিজ্য। সমুদ্রের বিশালতা ও নির্মল জলরাশি উপভোগ করতে আসা পর্যটকেরা এখন বালিয়াড়ির ধারে হকার ও ঝুপড়ি দোকানের ভিড়ে চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এই ঘিঞ্জি পরিবেশ একদিকে যেমন পর্যটকদের বিরক্তি ও কষ্ট দিচ্ছে, তেমনি সৈকতের জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য মারাত্মকভাবে বিনষ্ট করছে। প্রশ্ন হলো, আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং মন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনার পরেও এই দখলদাররা কোন শক্তির জোরে বারবার সৈকত দখল করার সাহস পাচ্ছে? সচেতন মহল ও পরিবেশবাদীরা অভিযোগ করেছেন, এই বিপুল অর্থ উপার্জনের পেছনে স্থানীয় রাজনৈতিক সিন্ডিকেট এবং প্রশাসনের একশ্রেণির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সরাসরি যোগসাজশ ও স্বার্থসংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সরকার বা রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে কেবল সিন্ডিকেটের চেহারা বদলায়, কিন্তু সৈকত দখলের এই সংস্কৃতি কোনোভাবেই পরিবর্তিত হয় না। এমনকি উচ্ছেদ ঠেকাতে এখন চাকাযুক্ত দোকান ব্যবহার করা এবং আইনি ফাঁকফোকর খোঁজার মতো অনৈতিক পথ অবলম্বন করা হচ্ছে, যা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকত থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের দূরদর্শিতার অভাবে পর্যটকদের সমস্ত চাপ এসে পড়েছে সুগন্ধা পয়েন্টের মাত্র এক কিলোমিটার এলাকায়। অথচ মেরিন ড্রাইভের দরিয়ানগর থেকে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত সৈকত আজও অরক্ষিত ও লাইফগার্ডবিহীন অবস্থায় রয়েছে। অন্যান্য পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ও সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হলে সুগন্ধার ওপর এই অনাকাঙ্ক্ষিত চাপ কমত এবং অবৈধ বাণিজ্যের চক্রও দুর্বল হতো। আমরা মনে করি, আদালতের রায় বা আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে এই দখলদারদের দীর্ঘায়িত করার কোনো সুযোগ নেই। জেলা প্রশাসন ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবের ঊর্ধ্বে উঠে বালিয়াড়ির এই দখলদারদের বিরুদ্ধে স্থায়ী ও কঠোর ব্যবস্থা নিতেই হবে।।
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত