Published : 09 Jul 2026, 04:19 AM
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এএএনআই জানিয়েছেন, বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ এবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই গতি পাবে। এই পরিকল্পনার বাস্তবায়নে চীনের কারিগরি সহযোগিতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে এই সহযোগিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সংসদে সাধারণ আলোচনায় মন্ত্রী এই তথ্য তুলে ধরেন। মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনাসহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন কবলিত মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নদী ভাঙনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারাচ্ছে, এই সংকট নিরসনে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য এই উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সেই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাত কোটি মানুষের সুবিধার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একই সাথে, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটি মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছেন। ইতোমধ্যে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শুরু করেছে। ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার সমস্যা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ফারাক্কা সহ বিভিন্ন বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি অপরিহার্য। সরকার ইতিমধ্যেই জরুরি ভিত্তিতে খাল খনন শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে, যার মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি নিশ্চিত হবে। বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী অতীতের নিপীড়ন এবং দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, এবং অতীতের সেই পরিস্থিতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার কোনো চেষ্টা দেশের জনগণ প্রতিহত করবে।।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা: সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অন্য দেশের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই – তথ্য উপদেষ্টা