Published : 09 Jul 2026, 04:27 AM
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এএএনআই জানিয়েছেন যে, বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মধ্যেই শুরু হতে চলেছে। এই পরিকল্পনায় চীন যে কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণ প্রদান করছে, তা নিশ্চিত হয়েছে। এর আগে সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রক্রিয়া ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে। আজ সংসদে সাধারণ আলোচনায় এই তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। মন্ত্রী আরও বলেন, তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনা সহ দেশের প্রায় চার হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন কবলিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে লক্ষ লক্ষ মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারাচ্ছে, এই সংকট নিরসনে সরকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় সাত কোটি মানুষের সুবিধার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একই সাথে, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় দুই কোটির মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারিগরি সহযোগিতা দিতে সম্মত হয়েছেন। ইতোমধ্যে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে। ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বিভিন্ন বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি অপরিহার্য। সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী অতীতের নিপীড়নের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ নিপীড়নের শিকার হয়েছে। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে দীর্ঘ আন্দোলনের পর দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অতীতের সেই পরিস্থিতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো চেষ্টা দেশের জনগণ প্রতিহত করবে।।
আইনি বাধা অতিক্রম করে শপথ নিলেন সরোয়ার আলমগীর; চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য