Published : 09 Jul 2026, 05:04 AM
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম-৪ আসনের বেসরকারিভাবে বিজয়ী বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বাতিল করেছেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবার (৩০ জুন) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এই সিদ্ধান্ত প্রদান করে, যার ফলস্বরূপ তাঁর নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ করা আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। এই মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ব্যারিস্টার এ এস এম শাহরিয়ার কবির জামায়াত শিবিরের প্রার্থীর পক্ষে সওয়াল করেন, যেখানে আইনজীবী মো. আজিম উদ্দিন পাটোয়ারীও উপস্থিত ছিলেন। আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরী ও ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রতিনিধিত্ব করেন। ঋণখেলাপির অভিযোগের কারণে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিন গত ১৮ জানুয়ারি বৈধ ঘোষণা করা হয়। এই সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে রিট হাইকোর্ট খারিজ করে দিলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করে। এছাড়াও, জামায়াতের প্রার্থী মো. আনোয়ার সিদ্দিকী লিভ টু আপিল করেন।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা বহালের বিরুদ্ধে তাঁর লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে। ফলে আসলাম চৌধুরী নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ পান। তবে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত আদালতের আদেশের কারণে তাঁর ফলাফল প্রকাশ করা যাবে না। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে আসলাম চৌধুরী বেসরকারিভাবে জয়ী হলেও আদালতের নির্দেশে তাঁর ফল প্রকাশ করা হয়নি। চট্টগ্রাম-৪ আসনে বেসরকারিভাবে জয়ী প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে—এই আসনে কি পুনরায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, নাকি দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা প্রার্থীকেই বিজয়ী ঘোষণা করা হবে? এই বিষয়ে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল মন্তব্য করেছেন যে, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় না দেখে এর পরিণতি সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করা উচিত নয়। তিনি বলেন, "আমার অভিজ্ঞতা থেকে বলছি, যে ব্যক্তি প্রতিনিধি নির্বাচিত হন, তার ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়ার কারণে জনগণের মতামত পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি। আমি আশা করি, জনগণ পুনরায় তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ পাবেন।
" সকালে আপিল বিভাগের রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, "এই রায়ের ফলে আসলাম চৌধুরী যে বৈধ প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন, তা আর বিদ্যমান নেই। আদালত যেহেতু সংক্ষিপ্ত আদেশ দিয়েছেন, এর কিছু পরবর্তী পদক্ষেপ থাকতে পারে। আদালত বলেছে, পূর্ণাঙ্গ রায়ে বাকি বিষয়গুলো আসবে। তাই অপেক্ষা করা ছাড়া উপায় নেই। আসলাম চৌধুরীর আইনজীবীরা হয়তো পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।"।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসের পথে অগ্রগতি: নতুন উপজেলা ও থানা অনুমোদনে সরকার