Published : 09 Jul 2026, 03:46 AM
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। এই সম্পর্ককে এক নতুন মাত্রা দেওয়ার ক্ষেত্রে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি জানান, চীনের প্রস্তাবিত করিডোর সংক্রান্ত বিষয়গুলো বর্তমানে বাংলাদেশ পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করছে। তবে এই বিষয়ে ঢাকা এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি। শনিবার (২৭ জুন) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য প্রদান করেন। তিনি স্পষ্ট করেন, 'আমরা চীনের করিডোর প্রস্তাবটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছি, কিন্তু এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান গ্রহণ করিনি।' করিডোর প্রস্তাবের পেছনে সরকারের প্রধান আগ্রহের কারণ হিসেবে তিনি পরিবহন খরচ কমানোর বিষয়টি তুলে ধরেন।
চীন সফর থেকে বাংলাদেশ কী লাভ করল—এই প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, 'আমরা কোনো প্রকার সুবিধা গ্রহণ করিনি। এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের অভিমুখ নির্ধারণের জন্য। যদি এই লক্ষ্য পূরণ হয়, তবে অন্যান্য সুবিধাগুলো ভবিষ্যতে আসবে। এই বিষয়ে কিছুটা আত্মমর্যাদা বজায় রাখা উচিত। এই ধরনের অস্বস্তিকর প্রশ্ন করা ঠিক নয়।' তিস্তা নদী মহাপরিকল্পনা প্রসঙ্গে খলিলুর রহমান আরও বলেন, 'এই বিষয়ে চীনের সঙ্গে আলোচনায় যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে।' তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, 'তিস্তা প্রকল্পের আলোচনা অনেকদূর এগিয়েছে এবং আমরা আশা করছি, খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই প্রক্রিয়া শুরু হবে।
' দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, 'বাংলাদেশ ও চীন তাদের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ স্তরে উন্নীত করার বিষয়ে একমত। তিনি উল্লেখ করেন, বেইজিং অন্যান্য দেশের সঙ্গে এই স্তরের অংশীদারিত্ব বজায় রাখে না। এশিয়ায় তাদের এমন ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা, কম্বোডিয়া, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার মতো কয়েকটি দেশের সঙ্গে। এখন বাংলাদেশও সেই তালিকায় স্থান করে নিয়েছে।' তিনি উপসংহারে বলেন, 'এই সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশ ও চীনের ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের প্রতিফলন এবং এটি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের বহিঃপ্রকাশ।'।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা: সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে অন্য দেশের হস্তক্ষেপের কোনো সুযোগ নেই – তথ্য উপদেষ্টা