Published : 08 Jul 2026, 11:37 PM
সুইজারল্যান্ডে শান্তি স্থাপনের লক্ষ্যে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানি কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা চলার সময়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি দিয়েছেন। সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় ট্রাম্প কঠোর ভাষায় ঘোষণা করেন যে লেবাননে ইরানের উচ্চপদস্থ সহযোগীদের সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দেন, যদি এই দাবি পূরণ না হয়, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আবারও অত্যন্ত কঠোর হামলা চালাবে—যা গত সপ্তাহে করা পদক্ষেপের চেয়েও মারাত্মক হবে। চলতি মাসের শুরুতে ট্রাম্পের নির্দেশে যে হামলা চালানো হয়েছিল, তার ইঙ্গিত তিনি দিয়েছেন। এই শান্তি আলোচনাটি কাতারের মধ্যস্থতায় সুইজারল্যান্ডের পাহাড়ি রিসোর্ট বুর্গেনস্টক-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই আলোচনার ভিত্তি ছিল একটি সমঝোতা স্মারক, যার মূল লক্ষ্য ছিল হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত করা এবং লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসনসহ সকল শত্রুতা সমাপ্ত করা। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে মার্কিন মিত্র ইসরায়েল লেবাননে আক্রমণ করেছিল। তবে ইরান অভিযোগ করেছে যে ওয়াশিংটন লেবাননে যুদ্ধ বন্ধের প্রতিশ্রুতি দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় বন্ধ করে দেয়। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে এই আলোচনা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির মতো মৌলিক বিষয়ে হবে না। শান্তি বৈঠকে কাতারি মধ্যস্থতাকারীদের উপস্থিতিতে মার্কিন ও ইরানি কর্মকর্তারা মুখোমুখি হন। সেখানে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স লেবাননের পরিস্থিতি কিছুটা হালকাভাবে দেখানোর চেষ্টা করেন এবং দাবি করেন যে সেখানে যুদ্ধবিরতির দিকে অগ্রগতি হয়েছে। তিনি পরিস্থিতি জটিলতার কথা উল্লেখ করে বলেন, "এই ধরনের বিষয়গুলো সবসময়ই কিছুটা বিশৃঙ্খল থাকে।" যদিও গত শুক্রবার লেবাননে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। শনিবার ইরান জানায়, তারা পুনরায় হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দিয়েছে। এর আগে টানা চার মাস এই পথ বন্ধ থাকার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছিল।
মার্কিন কর্মকর্তারা প্রণালী পুনরায় বন্ধ হওয়ার বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করলেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের তথ্য ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইরানের ঘোষণার পর মাত্র একটি ছোট ট্যাঙ্কার সংকেত চালু রেখে প্রণালী পার হতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে গত কয়েক দিনে অনেক জাহাজ চলাচল করছিল। ইরান আরও স্পষ্ট করে বলেছে যে লেবাননে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এবং ইরানকে অর্থনৈতিক সুবিধা না দেওয়া পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচির পরবর্তী ধাপের কোনো আলোচনা শুরু হবে না। আলোচনার ফাঁকে জেডি ভ্যান্স, বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎ করেন। এই সাক্ষাৎগুলোতে অত্যন্ত উষ্ণ সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়। সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের সঙ্গে আলিঙ্গনের সময় ভ্যান্সকে "হোয়াটস আপ ম্যান?" বলে সম্বোধন করেন, যার জবাবে আসিম মুনিরও উইটকফকে "মাই ব্রাদার" বলে সম্বোধন করেন।।
চীনেকার সহায়তায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরে শুরু তিস্তা মহাপরিকল্পনা: সংসদে পানিসম্পদমন্ত্রীর ঘোষণা