Published : 09 Jul 2026, 04:32 AM
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন যে, বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনার কাজ ২০২৬-২৭ অর্থবছরেই শুরু হতে চলেছে। এই পরিকল্পনায় চীন থেকে কারিগরি সহায়তা ও অংশগ্রহণের নিশ্চয়তা এসেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফরের মাধ্যমে এই সহযোগিতা নিশ্চিত হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি স্টাডি) প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আজ সংসদে সাধারণ আলোচনায় এই তথ্য প্রদান করেন মন্ত্রী। মন্ত্রী বলেন, "তিস্তা, পদ্মা, যমুনা, মেঘনাসহ দেশের প্রায় ৪ হাজার কিলোমিটার নদীভাঙন কবলিত এলাকায় বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত প্রকৃতির সঙ্গে এক কঠিন লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। নদীভাঙনের কারণে অসংখ্য মানুষ তাদের ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোয় চরম দুর্দশার শিকার হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট।" তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের দীর্ঘদিনের পানি ও নদী ব্যবস্থাপনার সমস্যার দ্রুত সমাধানের জন্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন।
এই লক্ষ্যেই তিস্তা মহাপরিকল্পনার বাস্তবায়ন দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রী উল্লেখ করেন, দেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বা প্রায় ৭ কোটি মানুষের সুবিধার জন্য পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প ইতোমধ্যে একনেকে অনুমোদন পেয়েছে। একই সাথে, তিস্তা ও ধরলা অববাহিকার প্রায় ২ কোটি মানুষের জন্য চলতি অর্থবছরেই এই মহাপরিকল্পনার কাজ শুরু হবে। চীন সফরের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, "প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। তারা বাংলাদেশের নদী ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে কারিগরি সহায়তা প্রদানে সম্মত হয়েছেন। ইতোমধ্যে দুই দেশের বিশেষজ্ঞ দল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করেছে।" ভারত থেকে আসা ৫৭টি অভিন্ন নদীর পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, "ফারাক্কাসহ বিভিন্ন বাঁধের কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশ ন্যায্য পানির হিস্যা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। তিস্তা, মাথাভাঙ্গা, ইছামতি ও বড়ালসহ বিভিন্ন নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় জলাবদ্ধতা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য ব্যাপক খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।" সরকার ইতোমধ্যে জরুরি ভিত্তিতে খাল খননের কাজ শুরু করেছে এবং পর্যায়ক্রমে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সুসমন্বিত পানি ব্যবস্থাপনার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। বক্তব্যের শেষে মন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ ১৭ বছরের নিপীড়নের কথা উল্লেখ করে বলেন, খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্দোলনের পর দেশে স্বাধীনভাবে কথা বলার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, অতীতের সেই পরিস্থিতি পুনরায় ফিরিয়ে আনার যেকোনো প্রচেষ্টা দেশের জনগণ প্রতিহত করবে।"।