Published : 09 Jul 2026, 04:34 AM
পারস্পরিক আক্রমণের বন্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একমত হয়েছে। এই দুই দেশের মধ্যে হরমুজ প্রণালী সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে মঙ্গলবার কাতারের রাজধানী দোহায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। এই যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরিত হয়েছে মাত্র এগারো দিন আগে। এই সময়ের মধ্যে পক্ষগুলো একে অপরের ওপর হামলা চালানোর চেষ্টা করায় পরিস্থিতি অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। এমনকি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুদ্ধ শুরু করে 'কাজ শেষ করার' হুমকি দিয়েছেন। মূলত এই নতুন সংঘাতের জন্ম হয়েছে যুদ্ধ বন্ধের জন্য স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) শর্তাবলী এবং বিশেষত হরমুজ প্রণালির বিষয়ে দুই পক্ষের ভিন্ন ভিন্ন মতপার্থক্যের কারণে।
যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, 'আমরা আপাতত সকল প্রকার সামরিক কার্যকলাপ ও হামলা বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।' অন্য এক কর্মকর্তা আরও নিশ্চিত করেছেন যে বর্তমানে হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জাহাজ চলাচল অবাধে চলবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো মঙ্গলবার এই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ইরান বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেয়। গত সপ্তাহে সুইজারল্যান্ডে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলের সঙ্গে আলোচনায় ইরান একটি 'হটলাইন' চালু করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। এই হটলাইনটি হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের সমন্বয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি)-এর মধ্যে স্থাপন করা সম্ভব ছিল। তবে গত শনিবার পর্যন্ত এই হটলাইন চালু করা সম্ভব হয়নি।
এরই মধ্যে ইরান পুনরায় দাবি শুরু করে যে এই পথে জাহাজ চলাচলের সমন্বয় অপরিহার্য। সূত্রমতে, মঙ্গলবার মূলত সুইজারল্যান্ডে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বর্তমান উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে আলোচনার স্থান পরিবর্তন করে দোহায় নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু এখন হরমুজ প্রণালীর দিকে সরে এসেছে। জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তিগত দলের প্রধান নিক স্টুয়ার্ট এই আলোচনায় অংশ নিতে পারেন। তবে এই বিষয়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য এখনো আসেনি।।