Published : 25 May 2026, 05:22 AM
বঙ্গোপসাগরে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য সরকার নতুন করে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে। রবিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জ্বালানি দেশের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। জাতীয় স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে গ্যাস অনুসন্ধানের চুক্তি করা হবে। সমুদ্র থেকে তেল বা গ্যাস পাওয়া গেলে তা দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনবে।’ মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা স্বচ্ছতার সাথে সবকিছু করছি এবং দেশের স্বার্থের কোনো ক্ষতি হবে না। অনেক কোম্পানি ইতোমধ্যে দরপত্রে অংশগ্রহণের আগ্রহ জানিয়েছে। আমরা আশা করছি, এবারের দরপত্র প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অংশগ্রহণ থাকবে। গত বছর কোনো কোম্পানি অংশ নেয়নি, তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে এসেছে।
’ বিদেশি কোম্পানিগুলোকে আকৃষ্ট করতে উৎপাদন অংশীদারত্ব চুক্তি (পিএসসি) ২০২৬ সালে সংশোধন করে কিছু বিশেষ সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। নতুন কী চমক থাকছে, এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, ‘আসলে চমক তো বিএনপি সরকার!’ অতীতে কয়েকটি কোম্পানি অনুসন্ধান শুরু করেও কাজ শেষ করেনি, ভবিষ্যতে এমন সংশয় আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।’ জ্বালানিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিনের একটি জটিলতা আজ দূর হলো। দেশের সম্পদ মাটির নিচে রেখে আমরা এতদিন আমদানির উপর নির্ভরশীল ছিলাম, যা আমাদের অনেক ক্ষতি করেছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। সমুদ্র জয় করার নামে আমরা অনেক ঢাকঢোল পিটিয়েছি, কিন্তু সমুদ্র থেকে সম্পদ উত্তোলনের কথা ভুলে গেছি। যাদের সাথে আমরা সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছি, তারা গ্যাস আবিষ্কার করে ব্যবহার করছে।’ তিনি বলেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সময় জ্বালানি খাত বিপর্যস্ত ছিল, তবে এখন পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার কাজ করছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আজ জ্বালানি খাতের জন্য একটি আনন্দের দিন। ছয়টি জাতীয় দৈনিকের মাধ্যমে সমুদ্রে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে এবং এটি সকল দূতাবাসে পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান, অতীতের দরপত্র প্রক্রিয়ায় কিছু ত্রুটি ছিল, যা সংশোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে জ্বালানি খাতে সকল ঝুঁকি দূর করা হবে। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, গত বছর সাতটি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও কেউ জমা দেয়নি। পরে একটি কমিটি গঠন করে কোম্পানিগুলোর সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং তাদের আপত্তির কারণগুলো জানা যায়। বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে এক বছর ধরে গবেষণা করার পর পিএসসি সংশোধন করা হয়েছে।।
পুঁজিবাজারে নতুন আলো: বিআরবি ক্যাবল ও আইসিবি ক্যাপিটালের হাত মেলানো