Published : 24 May 2026, 11:44 PM
আসন্ন জুলাই মাসেই বাংলাদেশে তৈরি প্রথম পরিবেশ-বান্ধব বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) বাজারে আসছে। দেশের শিল্পখাতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে ‘বাংলাদেশ অটো ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড’ (বিএআইএল), যারা বিভিন্ন মডেলের গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বাণিজ্যিক যানবাহন নিয়ে আসছে। গতকাল (২৩ মে) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দেশীয় প্রযুক্তির বৈদ্যুতিক গাড়ির পরীক্ষামূলক ড্রাইভে অংশ নেন। একইসাথে, এই উদীয়মান শিল্পখাতে সরকারের সর্বাত্মক সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রদর্শনীতে স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকল (এসইউভি), মোটরসাইকেল, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান ও অটোরিকশার মতো বিভিন্ন যান প্রদর্শিত হয়। প্রদর্শনী শেষে, প্রধানমন্ত্রী বিএআইএল-এর চেয়ারম্যান এ মান্নান হোসেন খান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবিরের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার এবং অটোমোবাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা হয়। মান্নান হোসেন খান টিবিএসকে জানান, গাড়িগুলো সম্পূর্ণরূপে দেশীয় প্রযুক্তি দিয়ে তৈরি, যদিও কিছু প্রয়োজনীয় উপকরণ বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার যদি আমদানিকৃত উপকরণের উপর শুল্ক মওকুফ করে, তবে উৎপাদন খরচ আরও কমানো সম্ভব হবে। ব্যবস্থাপনা পরিচালক মীর মাসুদ কবির জানান, গাড়িগুলো ইউরোপীয় মানদণ্ড অনুযায়ী তৈরি করা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে রপ্তানির সুযোগ সৃষ্টি করবে। চার্জিং এবং কর্মক্ষমতা কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, তাদের তৈরি বৈদ্যুতিক এসইউভি একবার ফুল চার্জে ৪৫০ কিলোমিটারের বেশি পথ চলতে সক্ষম। সাধারণ চার্জে ৫-৬ ঘণ্টা সময় লাগলেও, ফাস্ট চার্জিংয়ের মাধ্যমে মাত্র ৩০ মিনিটেই এটি সম্পূর্ণ চার্জ করা যাবে। অন্যদিকে, কোম্পানির বৈদ্যুতিক ট্রাক ও কাভার্ড ভ্যান এক চার্জে প্রায় ২০০ কিলোমিটার চলতে পারবে, যা সাধারণ চার্জে ৬ ঘণ্টা এবং ফাস্ট চার্জিংয়ে ৪০ মিনিটে চার্জ হবে। গাড়িগুলো সম্পূর্ণরূপে ব্যাটারিচালিত এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় জ্বালানি তেলের প্রয়োজন হবে না, ফলে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কম হবে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দেশের বাজারে ইভি গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যে দাম সাশ্রয়ী রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শিল্পখাতে অবদান রাখার পাশাপাশি মান ও নিরাপত্তা বজায় রাখলে সরকার এই শিল্পকে সর্বাত্মক সহায়তা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।
মীরসরাইয়ে ১৫০০ কোটি টাকার বিনিয়োগ চট্টগ্রামের মীরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলে এই ইভি উৎপাদন প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য কোম্পানিটি প্রায় ১,৫০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছে। তারা দাবি করছে, এটিই বাংলাদেশের প্রথম অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান, যারা স্থানীয়ভাবে ইভি প্ল্যাটফর্ম ও বডি তৈরি করতে সক্ষম। মীর মাসুদ কবির বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য গ্রাহকের সন্তুষ্টি ও নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করা। আমরা সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের মাধ্যমে দেশের ইভি ইকোসিস্টেম উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।’ কোম্পানিটি জানিয়েছে, প্রতিটি গাড়ির সাথে পাঁচ বছরের ওয়ারেন্টি এবং বিশেষ বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদান করা হবে। এছাড়াও, তাদের ‘গ্লাইডার’ মোটরসাইকেল এবং ‘অটোম্যাক্স’ থ্রি-হুইলারগুলোতে সহজে পরিবর্তনযোগ্য (রিমুভেবল) ব্যাটারি সুবিধা থাকবে, যা গ্রাহকদের জন্য চার্জিংকে আরও সহজ করে তুলবে।।
সবুজ ভবিষ্যতের পথে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় অঙ্গীকার