Published : 18 May 2026, 09:09 AM
জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোটরসাইকেল মালিকদের উপর অগ্রিম আয়কর আরোপের পরিকল্পনা করছে। ধারণা করা হচ্ছে, আসন্ন বাজেটে এই প্রস্তাবনা আসতে পারে। এই খবরে মোটরসাইকেল চালকদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে। গতকাল রবিবার সকালে বহু মোটরসাইকেল চালক এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং এনবিআর চেয়ারম্যানের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন। শুধু মোটরসাইকেল মালিক নন, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী, বাড়ি ও গাড়ি মালিকসহ সমাজের বিভিন্ন পেশার করদাতাদের বিভিন্ন কারণে অগ্রিম কর দিতে হয়, যা অনেক সময় যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না। এই অগ্রিম কর প্রদান করদাতাদের উপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে। এনবিআর সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর আদায় হওয়া মোট আয়করের দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসে উৎসে বা অগ্রিম কর থেকে। প্রশ্ন হলো, সরকার কেন আপনার উপার্জনের উপর আগে থেকেই কর নেয়? এই অগ্রিম আয়কর নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত? ১. করদাতার সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা: করদাতার সামাজিক অবস্থান, আয়, বাড়ি, গাড়ি ও অন্যান্য সম্পদের পরিমাণ দেখে তাঁর করযোগ্য আয় আছে কিনা, তা বোঝা যায়। এনবিআর এই ধরনের করদাতাদের কাছ থেকে অগ্রিম কর আদায় করে। যেহেতু তাঁদের করযোগ্য আয় রয়েছে, তাই অগ্রিম কর দিলেও বছর শেষে রিটার্ন দেওয়ার সময় তা সমন্বয় করা সম্ভব।
তবে মোটরসাইকেল মালিকদের উপর অগ্রিম আয়কর আরোপের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। যেমন, মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের ক্ষমতা (সিসি) অনুযায়ী ২ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কর বসানোর কথা ভাবা হচ্ছে, যা অনেক বাইকারের কাছে অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। তাঁদের করযোগ্য আয় নাও থাকতে পারে। ২. রাজস্বের চাপ মোকাবেলা: উৎসে বা অগ্রিম কর আদায় এনবিআরের জন্য কর আদায়ের একটি সহজ উপায়। রাজস্ব আদায়ের চাপ সামলাতে বিগত কয়েক বছর ধরে এনবিআর এই পথ অনুসরণ করে আসছে। বিভিন্ন খাতে উৎসে কর বা অগ্রিম কর বসিয়ে কর আদায় করা হয়। বছরের শেষে কর পাওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে সারা বছর ধাপে ধাপে রাজস্ব সংগ্রহ করা যায়। ৩. কর ফাঁকি রোধ: পণ্য আমদানি, গাড়ি নিবন্ধন, জমি বিক্রি বা ব্যাংক লেনদেনের সময় আগেই কর কেটে নেওয়ার ফলে আয়ের তথ্য গোপন করা কঠিন হয়ে পড়ে। ৪. কর প্রদানে অভ্যস্ততা তৈরি: একসঙ্গে বড় অঙ্কের কর না দিয়ে ধাপে ধাপে কর দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। যেমন, প্রতি মাসে বেতন-ভাতা দেওয়ার সময় অনেক প্রতিষ্ঠান পে-রোল কর হিসেবে অগ্রিম কর কেটে সরকারি কোষাগারে জমা দেয়।
৫. অপ্রদর্শিত আয় চিহ্নিতকরণ: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যয় ও লেনদেনের সঙ্গে আয়কর রিটার্ন মিলিয়ে এনবিআর সহজেই অসঙ্গতি খুঁজে বের করতে অগ্রিম কর আরোপ করে। ৬. ব্যবসার লেনদেন পর্যবেক্ষণ: আমদানি, রপ্তানি, ঠিকাদারি, পরিবহন বা কমিশনভিত্তিক আয়ের উপর অগ্রিম কর নেওয়ায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের তথ্য সরকারের কাছে আসে। ৭. কর ব্যবস্থাকে স্বয়ংক্রিয় ও কার্যকর করা: উৎসে কর কাটা বা অগ্রিম কর নেওয়ার মাধ্যমে পরবর্তীতে কর আদায়ের চাপ কমে যায়। ৮. সরকারের নগদ প্রবাহ বৃদ্ধি: সরকার উন্নয়ন ব্যয়, বেতন-ভাতা ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির জন্য দ্রুত অর্থ পায়। কারণ, অগ্রিম কর সারা বছর সংগ্রহ করা হয়। ৯. করের আওতা বৃদ্ধি: অনেক ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিয়মিত রিটার্ন না দিলেও বিভিন্ন সেবার সময় অগ্রিম কর দেওয়ার মাধ্যমে করের আওতায় আসে। ১০. অর্থনীতির লেনদেনের তথ্যভান্ডার তৈরি: ব্যাংক, সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় ও আমদানির তথ্য থেকে কর কর্তৃপক্ষ অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিশ্লেষণ করতে পারে।।
তনু হত্যার রহস্যে নতুন মোড়! নয় বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় পোশাকের রক্তে আরও একজনের পরিচয়