Published : 18 May 2026, 12:07 PM
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ছাত্রী সোহাগী জাহান তনু হত্যার নয় বছর পর চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। তনুর পোশাক থেকে সংগ্রহ করা ডিএনএ নমুনায় কেবল তিনজন পুরুষের শুক্রাণু নয়, আরও একজনের রক্তের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে। প্রায় এক মাস আগে ল্যাবরেটরির পরীক্ষায় এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেলেও, গত রোববার (১৭ মে) রাতে তা জনসমক্ষে আসে। মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম জানান, ‘কয়েক মাস আগে আমি সিআইডিকে তনুর পোশাকে পাওয়া নমুনা নিয়ে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছিলাম। সম্প্রতি আমাকে জানানো হয়েছে, তনুর পোশাকে তিনজনের শুক্রাণুর পাশাপাশি অন্য একজনের রক্তও পাওয়া গেছে। ২০১৭ সালে তিনজনের শুক্রাণু পাওয়ার পর, নয় বছর спустя আরও একজনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া গেল।’ এর আগে, ২০১৭ সালের মে মাসে সিআইডি তনুর পোশাক থেকে নেওয়া ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজন পুরুষের শুক্রাণু খুঁজে পেয়েছিল।
তবে, ডিএনএ প্রোফাইল তৈরি করার পরেও, সেই সময় সন্দেহভাজনদের সাথে মেলানো সম্ভব হয়নি। পিবিআই সূত্র জানায়, গত ৬ এপ্রিল এই মামলায় তিন সন্দেহভাজন - অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট জাহিদ, ওয়ারেন্ট অফিসার হাফিজুর রহমান ও সৈনিক শাহিনুল আলমের ডিএনএ নমুনা ক্রসম্যাচ করার জন্য আদালতে আবেদন করা হয়। আদালতের অনুমতি পেয়ে গত ২১ এপ্রিল ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে হাফিজুরকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে তনু হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করে ঢাকায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং বিকেলে কুমিল্লার আদালতে সোপর্দ করা হয়। আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে। উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে টিউশনি করতে গিয়ে তনু নিখোঁজ হন। এরপর অনেক খোঁজাখুঁজির পর সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের কাছে জঙ্গলে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
পরদিন তনুর বাবা ইয়ার হোসেন অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। প্রথমে থানা পুলিশ এবং পরে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) মামলাটি তদন্ত করে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) তদন্ত করলেও কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়নি। পরবর্তীতে পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশে ২০২০ সালের ২১ অক্টোবর তনু হত্যা মামলার নথি পিবিআইয়ের ঢাকা সদর দপ্তরে হস্তান্তর করা হয়। গত প্রায় চার বছর ধরে পিবিআই সদর দপ্তরের পরিদর্শক মো. মজিবুর রহমান এই মামলাটি তদন্ত করেছেন। সবশেষে, ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।।
ইসরায়েলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধাস্ত্র সরবরাহ: ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হামলার প্রস্তুতি?