Published : 17 May 2026, 02:01 AM
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে এবং তাঁদের আন্দোলন একই সাথে সংসদ ও রাজপথে চলবে। শনিবার (১৬ মে) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। সরকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “এমন ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ তারা বাস্তবায়ন করেনি, যা বাংলাদেশের সুশাসন নিশ্চিত করার জন্য অপরিহার্য ছিল। যদি তারা এগুলো বাস্তবায়ন না করে, তবে আমাদের আন্দোলন চলবে – সংসদে এবং একই সাথে রাজপথে।” ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে বলেন, “ত্যাগ ও আত্মোৎসর্গের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের উপর থেকে ফ্যাসিবাদী শাসন সরিয়ে দিয়েছেন। তরুণদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, এবং সেই আন্দোলনের ফল বর্তমান ক্ষমতাসীনরা ভোগ করছে।” জনগণের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করাকে তিনি জনগণের প্রতি চরম অপমান হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “অতীতে যারা জনগণের বিরুদ্ধে গিয়েছেন, তারা কেউই রেহাই পাননি, এবং আপনারাও রেহাই পাবেন না।
গণভোটের রায় আপনারা বাস্তবায়ন করতে বাধ্য হবেন।” বিএনপির কঠোর সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে রাজনৈতিক ক্ষমতার দখলদারিত্ব এবং চাঁদাবাজি এখনো বন্ধ হয়নি। আপনাদের নাম ‘জাতীয়তাবাদী’ দল, কিন্তু এখন মানুষ আপনাদের ‘চাঁদাবাজি দল’ হিসেবে জানে।” তিনি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সংসদে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হলে আমরা রাজপথে আন্দোলন করব। স্পিকারের অনুমতি নিয়ে কথা বলতে হয়, এমন জায়গায় যদি কথা বলতে না দেওয়া হয়, তবে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে যাব, যেখানে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন নেই।” জামায়াত আমির বলেন, “অতীতের অবদানকে সম্মান জানানো ভালো, কিন্তু শুধু অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
” সরকারের পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা வரவே জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন শুধু কথার কথা না হয়, দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “অন্যের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তাসহ তিনটি নদীর পাড়ের আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর করতে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা জরুরি।” প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই আপনারা শান্তিতে থাকুন এবং নিজেদের দেশে মানবিক পরিবেশ তৈরি করুন। আপনারা যদি আমাদের শান্তি নষ্ট করেন, তবে কারো শান্তি থাকবে না।” জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সিরাজুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম প্রমুখ।।
জাবিতে ছাত্রী নিপীড়নের চেষ্টা: দ্রুত গ্রেফতার না হলে ঢাকা-আরিচা সড়ক ঘেরাওয়ের হুমকি জাকসুর