Published : 17 May 2026, 01:49 AM
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বর্তমান সরকার জনগণের সাথে প্রতারণা করছে এবং তাঁদের আন্দোলন সংসদ ও রাজপথ—সবখানেই চলবে। শনিবার (১৬ মে) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন। সরকার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, “এমন ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ আইন আছে যেগুলো বাস্তবায়ন না হলে বাংলাদেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার সেগুলো ফেলে দিয়েছে। আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, যদি এই আইনগুলো বাস্তবায়ন করা না হয়, তাহলে আমাদের আন্দোলন চলবেই—সংসদে এবং রাজপথে।” ডা. শফিকুর রহমান জুলাই বিপ্লবের কথা স্মরণ করে বলেন, “ত্যাগ ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা আমাদের ওপর থেকে ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান দিয়েছেন। তরুণদের নেতৃত্বে গণ-আন্দোলনের মাধ্যমে রাজনৈতিক পরিবর্তন এসেছে, এবং সেই আন্দোলনের ফল ভোগ করছে বর্তমান ক্ষমতাসীন দল।” জনগণের গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করাকে তিনি জনগণের প্রতি চরম অপমান হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি বলেন, “অতীতে যারা জনগণের বিরুদ্ধে গিয়েছেন, তাঁরা কেউই রেহাই পাননি, এবং আপনারাও রেহাই পাবেন না। গণভোটের রায় অবশ্যই বাস্তবায়ন করতে হবে।” বিএনপির সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং চাঁদাবাজি এখনো বন্ধ হয়নি। আপনাদের দলের নাম ছিল জাতীয়তাবাদী দল, কিন্তু এখন মানুষ আপনাদের ‘চাঁদাবাজি দল’ হিসেবে জানে।” তিনি দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি সংসদে কথা বলার সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে আমরা জনগণের পার্লামেন্টে যাব, যেখানে স্পিকারের অনুমতির প্রয়োজন নেই।” ইতিহাস নিয়ে জামায়াত আমির বলেন, “অতীতের অবদানকে সম্মান জানানো ভালো, কিন্তু শুধু অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকলে জাতি এগোতে পারবে না। ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
” সরকারের পদ্মা ব্যারেজের ঘোষণা வரவே জানিয়ে তিনি বলেন, এটি যেন শুধু কথার কথা না হয়, দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “অন্যের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে তিস্তাসহ তিনটি নদীর পাড়ের আড়াই কোটি মানুষের দুঃখ দূর করতে হবে।” প্রতিবেশী দেশ ভারতের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা চাই আপনারা শান্তিতে থাকুন এবং নিজেদের দেশে মানবিক পরিবেশ তৈরি করুন। আপনারা যদি আমাদের শান্তি নষ্ট করেন, তাহলে কারো শান্তি থাকবে না।” জামায়াতের সহকারী জেনারেল সেক্রেটারি মাওলানা রফিকুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে এবং রাজশাহী মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি ইমাজ উদ্দিন মণ্ডলের সঞ্চালনায় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, জামায়াতের নায়েবে আমির ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আনোয়ারুল ইসলাম চান, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, খেলাফত মজলিসের নায়েবে আমির মাওলানা সিরাজুল হক, বাংলাদেশ নেজামে ইসলামীর আমির মাওলানা আবদুল কাইয়ুম সুবহানী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমদ এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম প্রমুখ।।
জাবিতে ছাত্রী নিপীড়নের চেষ্টা: দ্রুত গ্রেফতার না হলে ঢাকা-আরিচা সড়ক ঘেরাওয়ের হুমকি জাকসুর