Published : 17 May 2026, 04:08 AM
প্রায় তিন দশক আগের দুটি বিমান ভূপাতিত করার অভিযোগে কিউবার প্রবীণ নেতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন বিচার বিভাগ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, খুব শীঘ্রই এই অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে। সিআইএ প্রধানের হাভানা সফরের আবহে মার্কিন গ্র্যান্ড জুরির অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা এই বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ৯৪ বছর বয়সী রাউল কাস্ত্রো ২০২১ সালে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব থেকে সরে দাঁড়ালে অর্ধ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে চলা তার পরিবারের শাসনের অবসান হয়। এর আগে, বড় ভাই ফিদেল কাস্ত্রো পদত্যাগ করার পর তিনি ১৫ বছর কিউবার হাল ধরেছিলেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের চাপেরই অংশ এই বিচারিক প্রক্রিয়া। এর আগে ওয়াশিংটন কিউবার ওপর তেল অবরোধ ও বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। ১৯৯৬ সালে ‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ নামের একটি মার্কিন মানবাধিকার সংস্থার দুটি বিমান ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই এই অভিযোগ আনা হচ্ছে। মার্কিন বিচার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, আগামী বুধবারের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করা হতে পারে।
শুক্রবার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘এ বিষয়ে মন্তব্য করার জন্য আমি বিচার বিভাগকে উপযুক্ত মনে করি।’ তবে কিউবার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘আপনারা জানেন, তারা (কিউবানরা) কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। তারা এখন একটি দুর্বল জাতি হিসেবে পরিচিত।’ ট্রাম্প কিউবার ওপর তেল অবরোধ আরোপ করেছেন, যার ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। কিউবার জ্বালানি মন্ত্রী সম্প্রতি স্বীকার করেছেন, দ্বীপরাষ্ট্রটির জ্বালানি তেল প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তদন্তের অগ্রগতি ও আইনি জটিলতা রাউল কাস্ত্রোর বিরুদ্ধে ঠিক কী অভিযোগ আনা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, ১৯৯৬ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারির বিমান হামলার ঘটনাটিই তদন্তের মূল ভিত্তি। সেই সময় ফিদেল কাস্ত্রো ছিলেন প্রেসিডেন্ট এবং রাউল কাস্ত্রো সশস্ত্র বাহিনীর মন্ত্রী। ওই ঘটনায় বিমানে থাকা চারজন প্রাণ হারান।
‘ব্রাদার্স টু দ্য রেসকিউ’ ছিল কিউবান নির্বাসিতদের একটি দল, যারা সমুদ্রপথে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি দেওয়া অভিবাসীদের সন্ধান করত। ঘটনার আগে তারা কিউবার উপকূলের কাছে কাস্ত্রো-বিরোধী লিফলেট বিলি করেছিল। কিউবা সরকারের দাবি, বিমানগুলো বারবার তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তবে আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা জানিয়েছিল, হামলার ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটেছে। চলতি বছরের মার্চ মাসে ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল এই ঘটনার তদন্ত পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দেন। ফ্লোরিডার গভর্নর রন ডেসান্টিস শুক্রবার এই সম্ভাব্য অভিযোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, ‘এটা অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল।’ কিউবার প্রতিক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক মহলে প্রভাব অভিযোগের বিষয়ে কিউবা সরকার এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি। তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রুনো রদ্রিগেজ শুক্রবার এক বার্তায় বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা, অবরোধ ও শক্তির প্রয়োগের হুমকি সত্ত্বেও কিউবা তার সমাজতান্ত্রিক পথে অবিচল থাকবে এবং সার্বভৌমত্ব বজায় রাখবে।’।
জাবিতে ছাত্রী নিপীড়নের চেষ্টা: দ্রুত গ্রেফতার না হলে ঢাকা-আরিচা সড়ক ঘেরাওয়ের হুমকি জাকসুর