Published : 14 May 2026, 02:07 AM
দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেড প্রথম প্রান্তিকে দারুণ সাফল্য দেখিয়েছে। তাদের নিট মুনাফা ৪০ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৮৪ কোটি টাকায়। বেশ কয়েক প্রান্তিক ধরে শক্তিশালী আয়ের ধারা বজায় থাকায় এই প্রবৃদ্ধি সম্ভব হয়েছে। ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানের প্রাথমিক আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিকাশের মোট আয় ১০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৮০২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। টিবিএস-এর সঙ্গে আলাপকালে বিকাশের প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ রাহগীর বলেন, 'বিকাশ তার ব্যবসায়িক মডেলের কার্যকারিতা প্রমাণ করেছে এবং লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশির জন্য একটি আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক আর্থিক ব্যবস্থা তৈরিতে সহায়তা করে চলেছে।' তিনি আরও জানান, প্রযুক্তি খাতে নিয়মিত বিনিয়োগ, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নিয়মকানুন মেনে চলা এবং সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কারণে গ্রাহকদের আস্থা বেড়েছে, যা প্ল্যাটফর্মে তাদের অংশগ্রহণকে উৎসাহিত করেছে। বর্তমানে গ্রাহকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নিয়মিতভাবে লেনদেন করছেন, যা ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবার প্রতি ক্রমবর্ধমান আস্থার পরিচায়ক।
মঈনুদ্দিন মোহাম্মদ রাহগীর বলেন, গ্রাহকদের এই ব্যাপক ব্যবহার প্রতিষ্ঠানের আয় এবং মুনাফা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যেহেতু বাংলাদেশ একটি নগদবিহীন ও ডিজিটাল অর্থনীতির দিকে অগ্রসর হচ্ছে, তাই বিকাশ ভবিষ্যতে একটি শক্তিশালী আর্থিক পরিকাঠামো, ডিজিটাল বাণিজ্য এবং পেমেন্ট সলিউশনের ওপর বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে। ২০১০ সালে ব্র্যাক ব্যাংক ও যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক 'মানি ইন মোশন এলএলসি'-র যৌথ উদ্যোগে বিকাশ যাত্রা শুরু করে এবং ২০১১ সাল থেকে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ২০১৮ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি লাভজনক ছিল। তবে, সেবার পরিধি বাড়ানোর জন্য বড় ধরনের বিনিয়োগের কারণে ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত কিছু লোকসানের সম্মুখীন হতে হয়। কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বিকাশ পুনরায় মুনাফায় ফিরে আসে এবং এরপর থেকে এই ধারা বজায় রেখেছে। শুরু থেকেই বিকাশের বিনিয়োগকারীরা 'ধৈর্যশীল পুঁজি'র নীতি অনুসরণ করছেন।
তারা লভ্যাংশ নেওয়ার পরিবর্তে অর্জিত মুনাফার পুরো অর্থ ব্যবসায় পুনরায় বিনিয়োগ করেছেন। এই কৌশলের কারণেই বিকাশ একটি শক্তিশালী প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করতে এবং সেবার পরিধি কার্যকরভাবে বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। বর্তমানে বিকাশের ৫১ শতাংশ শেয়ার ব্র্যাক ব্যাংকের কাছে রয়েছে। অন্যান্য প্রধান শেয়ারহোল্ডারদের মধ্যে রয়েছে মানি ইন মোশন এলএলসি (১৬.৪৫%), আলিপে সিঙ্গাপুর ই-কমার্স (১৪.৮৭%), ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (১০.৩৬%) এবং এসভিএফ ২ বিম (ডিই) এলএলসি (৭.৩২%)। বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তাদের গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটির বেশি এবং এজেন্ট সংখ্যা ৩ লাখ ৫০ হাজার।।