Published : 04 May 2026, 05:07 PM
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় দুর্নীতির অভিযোগে এক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) গ্রেপ্তার হয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আবুল কালাম আজাদ নামের এই কর্মকর্তাকে আজ সোমবার পাবনা বিশেষ জজ আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ২০২৫ সালে তাঁর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ দায়ের করেছিল। দুদকের পাবনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক শহীদুল আলম আজ দুপুরে প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। অভিযুক্ত আবুল কালাম আজাদ পাবনা জেলার সুজানগর থানার হাসামপুর গ্রামের বাসিন্দা। দুদকের একটি দল গতকাল রোববার রাতে তাঁর নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে পাবনা সদর থানায় সোপর্দ করে। দুদক জানায়, ২০২৩ সালে আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পেয়ে তারা তদন্ত শুরু করে।
২০২৪ সালের ৮ মে আবুল কালাম আজাদ, তাঁর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন ও ছেলে ফজলে রাব্বির নামে সম্পদ বিবরণী জমা দেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়। এরপর ওই বছরের ৩ জুলাই তারা দুদকে সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। ২০২৫ সালের ১১ মার্চ দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও তথ্য গোপনের অভিযোগে তিনটি পৃথক মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, আবুল কালাম আজাদ ১ কোটি ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন, যা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় দণ্ডনীয় অপরাধ। তাঁর স্ত্রী মর্জিনা খাতুন স্বামীর অবৈধ সম্পদ দিয়ে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৮৩ হাজার ৪৮৩ টাকার সম্পদ ভোগ করেছেন, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অপরাধ। দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় এটি শাস্তিযোগ্য। অন্যদিকে, ছেলে ফজলে রাব্বির বিরুদ্ধে বাবার অবৈধ ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ ভোগ করার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এছাড়াও, আবুল কালাম আজাদের শ্যালক জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে অস্বাভাবিক সম্পদের তথ্য পাওয়ার পর দুদক কর্মকর্তারা গত ২০২৪ সালের ৭ অক্টোবর তাঁর নামে সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করেন। তিনি ৮ ডিসেম্বর ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৩৩ লাখ ১১ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দেন। অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামাল উদ্দিন ফকিরের নামে ৩২ লাখ ৪৬ হাজার টাকার স্থাবর ও ১ কোটি ৫৯ লাখ ৪০ হাজার ১৮২ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে, যা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত। এরপর দুদকের সহকারী পরিচালক সাধন চন্দ্র সূত্রধর বাদী হয়ে গত ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর আরও একটি মামলা করেন, যেখানে জামাল উদ্দিন ফকিরকে প্রধান এবং আবুল কালাম আজাদকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। এই মামলায় রোববার রাতে আবুল কালাম আজাদকে গ্রেপ্তার করে পাবনা সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়।।
প্রবাসী কর্মীদের জন্য বিমান ভ্রমণ ও বলাকা লাউঞ্জে বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করল সরকার