Published : 21 Jul 2026, 02:16 AM
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্পষ্ট করে বলেছেন যে, জুলাই সনদকে অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হবে এবং রাষ্ট্র সংস্কারের ভিত্তি হবে ৩১ দফা কর্মসূচি। সোমবার (২০ জুলাই) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শরিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও নৈশভোজের পর তিনি এই বার্তা দেন। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুগপৎ আন্দোলনের অংশ নেওয়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। সন্ধ্যা ৭টার পর থেকে এই আন্দোলনের নেতারা একে একে যমুনায় আসেন এবং প্রায় দেড় শতাধিক শীর্ষ নেতাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। নির্বাচন ও সরকার গঠনের পর এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে এই ধরনের আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়। মির্জা ফখরুল জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তাদের আত্মত্যাগের মাধ্যমেই ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরাচারের পতন ঘটে এবং দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে আসার সুযোগ সৃষ্টি হয়। আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারী আন্দোলনকারীদের অবদান জাতি চিরকাল স্মরণ করবে।
সরকারের পাঁচ মাসের কর্মতৎপরতা তুলে ধরে বিএনপি মহাসচিব জানান, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সাথে পরিবার কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ, বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ইমাম, পুরোহিত ও ফাদারদের ভাতা প্রদান, খেলোয়াড়দের ভাতা চালু করা এবং খাল খনন কর্মসূচির কাজ শুরু হয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সরকার একটি ভেঙে পড়া রাষ্ট্রীয় ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে পুনর্গঠনের দায়িত্ব নিয়েছে। ব্যাংকিং খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সংস্কার করে সেগুলোকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র সংস্কার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল আরও নিশ্চিত করেন যে, যুগপৎ আন্দোলনের সময় ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হবে। একই সঙ্গে সব রাজনৈতিক দলের সম্মতিতে স্বাক্ষরিত 'জুলাই সনদ'ও পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দৃঢ় অঙ্গীকার করেছেন। তিনি জানান, জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সমন্বয় জোরদার করতে প্রধানমন্ত্রী ভবিষ্যতেও মিত্র রাজনৈতিক দল ও জোটগুলোর শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক ও আলোচনা করবেন।
দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপি মহাসচিব স্পষ্ট ভাষায় বলেন, "এই বিষয়ে দলগুলোর সঙ্গে আমাদের এখনো কোনো আলোচনা হয়নি। আপনারা জানেন, আমাদের যে আইন হয়েছে, সেই আইনে দলীয় ভিত্তিতে নির্বাচন করার কোনো সুযোগ নেই।" আইনি বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, "সুতরাং আমার মনে হয়, সেই বিষয়ে আমরা এখনই আলোচনা না করলেও চলে। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেব।" নৈশভোজে অংশ নেওয়া মিত্র দলগুলোর ত্যাগের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ পনেরো বছর স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে যারা ত্যাগ স্বীকার করেছেন, কারাবরণ করেছেন কিংবা গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাদের এই অবদান দেশ ও জাতি চিরকাল মনে রাখবে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আগামী দিনেও সব রাজনৈতিক দলকে সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়ার কাজ চলবে।।
কর্মদক্ষতায় অসন্তুষ্ট হলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনবেন প্রধানমন্ত্রী: তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য