Published : 12 Apr 2026, 01:06 PM
কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে, মাছ ধরার নৌকায় বসে কয়েকজন জেলে অলস দুপুরে খাবার খাচ্ছিলেন। গোল হয়ে বসে তারা গল্প জুড়ে দিলেন। মেনুতে ছিল ডাল, ভাত আর সবজির তরকারি। জেলে আনোয়ার জানালেন, গত এক সপ্তাহ ধরে সাগরে গিয়েও তাদের ভাগ্যে বিশেষ কিছু জোটেনি। কিছু ছোট মাছ পেলেও তা বিক্রি করে দিয়েছেন। সাধারণত ভালো মাছ পেলে তারা কিছু নিজেদের জন্য রেখে দিতেন, কিন্তু এবার তেমন কিছুই নেই। তাই সবজি আর ডাল দিয়ে দিন কাটাতে হচ্ছে। তবে কারো মুখেই খাবারের অভাবের কোনো অভিযোগ নেই। জেলেরা জানালেন, নিজেদের কষ্টের চেয়ে তাদের বেশি চিন্তা হয় পরিবারের ভবিষ্যৎ নিয়ে।
সামনের কয়েক মাস কিভাবে চলবে, সেটাই এখন তাদের প্রধান দুশ্চিন্তা। ২৫ বছর বয়সী জেলে আনোয়ার হোসেন বললেন, গত পাঁচ মাস ধরে ধারদেনা করে সংসার চলছে। ভেবেছিলেন এই মৌসুমে মাছ বিক্রি করে ঋণের বোঝা লাঘব করবেন, কিন্তু মৌসুম প্রায় শেষ। আর মাত্র কয়েকদিন পর, ১৫ এপ্রিল থেকে শুরু হবে ৫৮ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। কক্সবাজারের বাঁকখালী নদীর তীরে সারি সারি নৌকার দেখা মেলে। মাছ ধরার এই সময়ে ট্রলারগুলো সাধারণত ব্যস্ত থাকে, কিন্তু এবার চিত্র ভিন্ন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ফিশারিঘাটের কয়েকজন মাঝিমাল্লার সাথে কথা বলে জানা গেল, মালিকরা বারবার খালি নৌকা ফেরত আসাতে বেশ অসন্তুষ্ট। অনেকে লোকসানের ভয়ে নৌকা চালানো বন্ধ করে দিতে চান। জেলেরা বললেন, কখনো একটি ট্রলারে প্রচুর মাছ ধরা পড়ে, আবার কখনো দিনের পর দিন সাগরে থেকেও তেমন কিছু মেলেনা।
এর ওপর যোগ হয়েছে ইরানের যুদ্ধের প্রভাব। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল সংগ্রহ করতেও অনেক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছেন না অনেকে। কক্সবাজার জেলায় প্রায় এক লক্ষ জেলে ও কয়েক হাজার ট্রলার মালিক রয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিশিং বোট মালিক সমিতি। এর মধ্যে বর্তমানে মাত্র ২৫০টি ট্রলার সাগরে মাছ ধরার কাজে নিয়োজিত। ফিশিং বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন জানান, কক্সবাজারের জেলেরা বর্তমানে চারটি প্রধান সংকটের সম্মুখীন হচ্ছেন – জ্বালানি সংকট, সাগরে মাছের অভাব, জলদস্যুদের লুটপাট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ।।
সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ খরচ কমানোর সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত