Published : 16 Mar 2026, 11:08 PM
ঢাকা-১১ আসনের পরাজিত বিএনপি প্রার্থী এম এ কাইয়ূম ভোটের ফলাফল নিয়ে উচ্চ আদালতে মামলা করেছেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম মনে করেন, এটি সরকারি ক্ষমতা ব্যবহার করে রায় প্রভাবিত করার অপচেষ্টা। তিনি এই আসন থেকে বিজয়ী হয়ে সংসদে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপের দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এই তরুণ সংসদ সদস্য বলেন, “অনেক ষড়যন্ত্র সত্ত্বেও বিএনপি ঢাকা-১১ আসনের ফল নিজেদের পক্ষে করতে পারেনি। এখন তারা আদালতের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। এলাকার জনগণ এর যোগ্য জবাব দেবে। আমাদের মনে হয়, সারাদেশে নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি করা হয়েছে। যেখানে আমাদের অভিযোগ জানানোর কথা, সেখানে উল্টো আমাদের বিরুদ্ধেই অভিযোগের চেষ্টা চলছে। তারা সরকারে থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার করছে।” আজ সোমবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের ন্যাশনাল বাংলা উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এক ইফতার মাহফিল ও আলোচনা সভা শেষে নাহিদ সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন। এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত অনুষ্ঠানে দলের আহ্বায়ক ছিলেন প্রধান অতিথি।
নাহিদ বলেন, সংস্কারের পক্ষে অন্য কোনো দল না দাঁড়ালেও এনসিপি দাঁড়াবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিএনপি সংস্কার নিয়ে লুকোচুরি করছে। ঈদের পর সংসদ অধিবেশনে গণভোট বা গণরায়ের বিষয়ে তাদের অবস্থান জানতে চাওয়া হবে। এর ওপর ভিত্তি করে বিরোধী দল তাদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে। নাহিদ বলেন, “বিএনপির ইশতেহার অনুযায়ী সংস্কার হলে আলোচনার আর কোনো প্রয়োজন ছিল না।” তিনি বলেন, বিএনপি এখন গণভোটের বিষয়টিকে মানতে চাইছে না। গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের বিষয়গুলো নিয়ে আগে ঐকমত্য হয়েছিল, কিন্তু এখন বিএনপি সেই বিষয়গুলো মানতে নারাজ। তাদের মর্জিমাফিক সংস্কার করতে চাইলে ঐকমত্য কমিশন এবং পূর্বের আলোচনা ব্যর্থ হবে। এই বিষয়টি জাতির সামনে পরিষ্কার করা উচিত ছিল। নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পরও বিএনপির এমন আচরণ দেখা গিয়েছিল। বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে চাই।
বিরোধী দল মানেই সবসময় বিরোধিতা নয়। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি, জ্বালানি সংকট এবং সামগ্রিক অর্থনীতি বিবেচনা করে আমরা চেয়েছিলাম জনগণের ভালো হোক। সরকার যদি আমাদের ক্রমাগত বিরোধিতার দিকে ঠেলে দেয়, তাহলে আমাদের আরও কিছুদিন অপেক্ষা করতে হবে। আমরা সরকারের আচরণ পর্যবেক্ষণ করব।” নাহিদ বলেন, “প্রথম অধিবেশনে আমরা ওয়াকআউট করেছি। যেখানে যেখানে কঠোর হওয়ার প্রয়োজন, সেখানে আমরা দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছি। আবার যেখানে সমঝোতার সুযোগ আছে, সেই পথও খোলা রেখেছি। আমরা সব দরজা বন্ধ করছি না।” অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব। দলের ঢাকা মহানগর উত্তরের সদস্যসচিব সর্দার আমিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় এতে এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জাতীয় নারীশক্তির আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।।
তনু হত্যার রহস্যে নতুন মোড়! নয় বছর পর ডিএনএ পরীক্ষায় পোশাকের রক্তে আরও একজনের পরিচয়