Published : 24 Feb 2026, 11:07 AM
জেফরি এপস্টিনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগে যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার ম্যান্ডেলসনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাকে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এপস্টিন, যিনি কুখ্যাত যৌন নিপীড়ক হিসেবে পরিচিত, তার সঙ্গে ম্যান্ডেলসনের সম্পর্ক নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা অসদাচরণ ও দুর্নীতির অভিযোগ শোনা যাচ্ছিল। সেই অভিযোগের তদন্তের স্বার্থেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। লেবার পার্টির একজন প্রভাবশালী নেতা হিসেবে পরিচিত ম্যান্ডেলসন একসময় যুক্তরাষ্ট্রে ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছেন। গতকাল সোমবার লন্ডনের নিজ বাসভবন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাকে আটক করে নিয়ে যায়। মেট্রোপলিটন পুলিশ তাদের নীতি অনুযায়ী সরাসরি ম্যান্ডেলসনের নাম প্রকাশ করেনি। তারা জানায়, ৭২ বছর বয়সী এক ব্যক্তিকে ‘সরকারি দায়িত্ব পালনকালে অসদাচরণের অভিযোগে’ গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লন্ডনের একটি পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
দ্য টাইমস পত্রিকায় প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খাকি প্যান্ট, ধূসর সোয়েটার ও গাঢ় জ্যাকেট পরিহিত পিটার ম্যান্ডেলসনকে একজন সাদা পোশাকের পুলিশ সদস্য গাড়ির দিকে নিয়ে যাচ্ছেন। পরবর্তীকালে মেট্রোপলিটন পুলিশ জানায়, ৭২ বছর বয়সী ওই ব্যক্তিকে তদন্তে সহযোগিতা করার শর্তে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, গ্রিনিচ মান সময় রাত দুইটার দিকে ম্যান্ডেলসনকে তার লন্ডনের বাসভবনে ফিরে আসতে দেখা যায়। লন্ডন থেকে আল-জাজিরার একজন সংবাদদাতা জানান, এটি নিঃসন্দেহে একটি বড় রাজনৈতিক খবর। ম্যান্ডেলসন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিতে অত্যন্ত প্রভাবশালী একজন ব্যক্তিত্ব। যৌন নিপীড়ক জেফরি এপস্টিনের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে ম্যান্ডেলসনকে বরখাস্ত করে ব্রিটিশ সরকার। তবে ৭২ বছর বয়সী ম্যান্ডেলসন এখনো ব্রিটিশ উপাধি ‘লর্ড’ বহন করছেন। গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এপস্টিনের সঙ্গে জড়িত লক্ষ লক্ষ নথি প্রকাশের পর ম্যান্ডেলসন নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।
নথিতে থাকা বিভিন্ন ই-মেইল থেকে ইঙ্গিত পাওয়া যায়, এই দুইজনের সম্পর্ক যতটা ধারণা করা হয়েছিল, তার চেয়েও অনেক বেশি ঘনিষ্ঠ ছিল। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউনের আমলে মন্ত্রী থাকাকালীন ম্যান্ডেলসন এপস্টেইনের সঙ্গে কিছু তথ্য আদান-প্রদান করেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ আছে। চলতি মাসের শুরুতে ম্যান্ডেলসন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি থেকে পদত্যাগ করেন। একইসঙ্গে তিনি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষ হাউস অব লর্ডসের সদস্যপদও ছেড়ে দেন। এর আগে এপস্টিনের সঙ্গে অতীতের সম্পর্কের জন্য ‘গভীর অনুতাপ’ প্রকাশ করেছিলেন ম্যান্ডেলসন।।
ঈদের পশু বাজারে সরবরাহ ঠিক, দামও হাতের নাগালে; বৃষ্টিতে বিপাকে ক্রেতা-বিক্রেতা