Published : 12 Apr 2026, 09:06 AM
হামে আক্রান্ত শিশুদের জন্য হাসপাতালে জায়গা না পাওয়া যখন একটি নিয়মিত ঘটনা, তখন ছয়টি অত্যাধুনিক শিশু হাসপাতাল বছরের পর বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে আছে – এই খবর হৃদয়বিদারক। বছরের পর বছর ধরে এই স্থাপনাগুলো ব্যবহার না করার কারণে শুধু ভবন নয়, ভেতরে থাকা মূল্যবান যন্ত্রপাতিও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। প্রথম আলো ইতিপূর্বে এই হাসপাতালগুলো নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন ও সম্পাদকীয় প্রকাশ করেছে, কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার অজুহাতে স্বাস্থ্যখাতে চরম অবহেলা ও দায়িত্বহীনতার পরিচয় পাওয়া যাচ্ছে। রাজশাহীতে আইসিইউর অভাবে একের পর এক শিশু মারা যাচ্ছে, অথচ সেখানকার ২০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটি বহু বছর আগে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরেও চালু হয়নি। এবার সামনে এসেছে রংপুর ১০০ শয্যাবিশিষ্ট শিশু হাসপাতালটির কথা, যা উদ্বোধনের ছয় বছর পরেও চালু করা যায়নি। স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত অনেক চিঠি চালাচালি হয়েছে, একাধিক কমিটি গঠিত হয়েছে, কিন্তু তারপরও সেখানে চিকিৎসা পরিষেবা শুরু করা যায়নি।
৩১ কোটি টাকার বেশি খরচ করে নির্মিত এই হাসপাতালের ভবন এখন ধ্বংসের পথে। একই অবস্থা বরিশাল, খুলনা, কুমিল্লা ও সিলেটের শিশু হাসপাতালগুলোরও। রংপুর বিভাগে বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল নেই। এই অঞ্চলের শিশুদের উন্নত চিকিৎসার জন্য এটি ছিল এক নতুন আশা। কিন্তু ২০২০ সালে ভবন বুঝিয়ে দেওয়ার পরেও জনবল কাঠামো (অর্গানোগ্রাম) চূড়ান্ত করা হয়নি, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়নি – বিষয়টি অবাক করার মতো। তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ২০২৩ সালে শুধুমাত্র ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়া একটি হাসপাতালের উদ্বোধন জনগণের সাথে এক ধরনের প্রতারণা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে জনবল নিয়োগ আটকে আছে। প্রশ্ন হলো, ৩২০ কোটি টাকা খরচ করে ভবন নির্মাণের আগে জনবল এবং বার্ষিক ব্যয়ের হিসাব করা হয়নি কি? যদি হিসাব করা হয়ে থাকে, তবে সেটি বছরের পর বছর ফাইলবন্দী কেন? আর যদি হিসাব করা না হয়ে থাকে, তাহলে কী যুক্তিতে এই হাসপাতালগুলো নির্মাণ করা হলো? শুধুমাত্র অবকাঠামো উন্নয়নের বরাদ্দ খরচ করার উদ্দেশ্যই কি এখানে কাজ করেছে? বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছে আমাদের প্রত্যাশা, শুধু চিঠি চালাচালি ও আশ্বাস নয়, বরং অবিলম্বে প্রশাসনিক বাধা দূর করে পূর্ণাঙ্গ জনবল ও প্রয়োজনীয় বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে এই হাসপাতালগুলো চালু করার ব্যবস্থা নিন। রাজশাহী, রংপুরসহ অন্যান্য স্থানে অব্যবহৃত, অবহেলিত ও সংস্কারহীন শিশু হাসপাতালগুলো কার্যকরভাবে সচল করুন এবং উন্নয়ন ও সংস্কার করুন। হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষা নিয়ে শিশুস্বাস্থ্য চিকিৎসায় বিশেষভাবে মনোযোগ দিন।।
রামপুরায় মাদ্রাসাছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যু: গ্রেপ্তার মূল সন্দেহভাজন